কোচবিহারে পাক গুপ্তচর সন্দেহে ধৃতদের ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য, ভুয়ো WhatsApp অ্যাকাউন্ট
কোচবিহারে পাক গুপ্তচর সন্দেহে ধৃতদের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য। AWES-এর লোগো ব্যবহার করে ভুয়ো WhatsApp অ্যাকাউন্ট, সিমকার্ড পাচার ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ।
কোচবিহারে পাক গুপ্তচর সন্দেহে ধৃতদের ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য, সেনার লোগো ব্যবহার করে ভুয়ো WhatsApp অ্যাকাউন্ট
কোচবিহার: পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে কোচবিহারের দিনহাটা ও সাহেবগঞ্জ এলাকা থেকে ধৃতদের তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। রাজ্য পুলিশের STF-এর তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা ভারতীয় সেনার কল্যাণমূলক সংস্থা Army Welfare Education Society (AWES)-এর লোগো ব্যবহার করে ভুয়ো পরিচয় তৈরি করেছিল। সেই পরিচয়ের আড়ালে একটি ভুয়ো WhatsApp প্রোফাইল চালানো হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। ওই WhatsApp অ্যাকাউন্ট থেকে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল এবং কী ধরনের তথ্য আদানপ্রদান হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ধৃতদের মোবাইল ফোন, WhatsApp চ্যাট, কল রেকর্ড এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য পরীক্ষা করে গোটা যোগাযোগের নেটওয়ার্কের সন্ধান চালানো হচ্ছে। কোনও সংবেদনশীল তথ্য বিদেশে বা সীমান্তের ওপারে পাঠানো হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এর পাশাপাশি তদন্তে ভারতীয় সিমকার্ড পাচারের বিষয়টিও সামনে এসেছে বলে সূত্রের খবর। সীমান্তবর্তী এলাকার সুযোগ নিয়ে একটি বড় চক্র ভারতীয় সিমকার্ড সংগ্রহ করে অন্যত্র পাচার করত কি না, তা খতিয়ে দেখছে STF। তবে ধৃত প্রত্যেকের সঙ্গে এই কর্মকাণ্ডের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনের নাম সামনে আসছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় আরও কয়েকজনকে STF গ্রেফতার করেছে বলে সূত্রের দাবি। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল চক্রের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা কোচবিহারে এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের সঙ্গে সীমান্তের ওপারে কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনও সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল কি না—সেই বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইসের পাশাপাশি আর্থিক লেনদেন এবং যোগাযোগের তালিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে এই চক্রের পরিধি এবং এর পিছনে আরও কারা রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।
তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। STF-এর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়া শেষ হলেই গোটা ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
