কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজের ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানে হাতে লেখা বিল ও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ। ঘটনায় উত্তেজনা, পৌঁছয় পুলিশ।
কোচবিহার মেডিক্যালে ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানে বিল নিয়ে অভিযোগ, অতিরিক্ত দাম নেওয়ারও দাবি
সিটি নিউজ বাংলা, ডিস্ট্রিক্ট ডেস্ক: কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানকে ঘিরে উঠল একাধিক অভিযোগ। রোগীর পরিবারের সদস্যদের দাবি, ওষুধ কেনার পর তাঁদের হাতে লেখা বিল বা কাঁচা বিল দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ওষুধের নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়ালে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোতোয়ালি থানার পুলিশ।

কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে এস. সাহা এজেন্সির মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান পরিচালিত হয়। তুলনামূলক কম দামে রোগীদের ওষুধ সরবরাহ করাই এই ধরনের দোকানের মূল উদ্দেশ্য। সেই দোকানেই বিল এবং ওষুধের দাম নিয়ে অভিযোগ ওঠায় পরিষেবার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হাতে লেখা বিল দেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগকারীদের দাবি, বুধবার কয়েকজন রোগীর পরিবারের সদস্য ওই দোকান থেকে ওষুধ কেনেন। ওষুধ দেওয়ার সময় তাঁদের পাকা বা অরিজিনাল বিলের পরিবর্তে হাতে লেখা বিল দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
পাকা বিল চাওয়া হলে প্রথমদিকে তা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন রোগীর পরিবারের সদস্যরা। পরে সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্টদের অরিজিনাল বিল দেওয়া হয় বলে তাঁদের দাবি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দোকান চত্বরে রোগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কর্মীদের বচসা শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে।
নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ
বিল সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি ওষুধের নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় বেশি টাকা নেওয়ার দাবিও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওষুধের গায়ে উল্লেখ থাকা মূল্য এবং তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া টাকার মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।
তবে ঠিক কোন ওষুধের ক্ষেত্রে কত টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নথি বা তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ওষুধের এমআরপি, বিক্রির বিল এবং নেওয়া অর্থের হিসাব খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বচসার অভিযোগ
রোগীর পরিবারের আরও অভিযোগ, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানালে হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে তাঁদের বচসা হয়। তাঁদের বাধা দেওয়া এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাতে লেখা বিল দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার দোকান কর্মীদের
অভিযোগের বিষয়ে দোকানের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলা হলে হাতে লেখা বিল দেওয়ার বিষয়টি তাঁরা স্বীকার করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে কী কারণে পাকা বিলের পরিবর্তে হাতে লেখা বিল দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি।
অন্যদিকে, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া এবং রোগীর পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি
অভিযোগকারী রোগীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে চান। প্রয়োজনে লিখিত অভিযোগও জানানো হবে বলে জানা গিয়েছে।
রোগীর পরিবারের বক্তব্য, সরকারি হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের স্বচ্ছ হিসাব থাকা জরুরি। ওষুধের দাম কত এবং রোগীর কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যথাযথ বিল দেওয়ার দাবি উঠেছে।
তদন্তেই স্পষ্ট হবে অভিযোগের সত্যতা
ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ওষুধের এমআরপি, বিক্রির বিল, নেওয়া অর্থ এবং দোকানের হিসাবপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কীভাবে খতিয়ে দেখে এবং কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর। একইসঙ্গে রোগী ও তাঁদের পরিবারের দাবি, ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানে প্রতিটি কেনাকাটায় যথাযথ বিল এবং নির্ধারিত মূল্যে ওষুধ বিক্রি নিশ্চিত করা হোক।
