fifa-withdraws-commercial-share-sale-plan-after-global-backlash
বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করলেন। UEFA, AFC ও CONCACAF-এর বিরোধিতায় পিছু হটল ফিফা।
সিটি নিউজ বাংলা, ক্রীড়া ডেস্ক:
বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা এবং ফুটবল মহলের প্রবল চাপের মুখে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে গত কয়েক মাস ধরে ফুটবল বিশ্বে চলা বিতর্ক ও বিভাজনের অবসান ঘটল।

ফিফার পরিকল্পনা ছিল ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (FFE)’ নামে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের একটি নতুন বাণিজ্যিক সংস্থা গঠন করা। ওই সংস্থার ২০ শতাংশ মালিকানা প্রাইভেট ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর সম্প্রচার স্বত্ব, টিকিট বিক্রি এবং স্পনসরশিপের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কার্যক্রমও এই সংস্থার অধীনে আনার প্রস্তাব ছিল।
তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা UEFA-সহ বিভিন্ন মহল এর তীব্র বিরোধিতা শুরু করে। পরিকল্পনা প্রত্যাহার না হলে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ বর্জনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। উত্তর আমেরিকার CONCACAF এবং এশিয়ার AFC-ও এই প্রস্তাবের বিরোধিতা জানায়।
বিতর্ক আরও বাড়ে ফিফার অভ্যন্তরেও। সভাপতির সিনিয়র উপদেষ্টা কার্লোস কোর্দেইরো এই পরিকল্পনাকে “ফুটবলের জন্য খারাপ চুক্তি” বলে অভিহিত করে পদত্যাগ করেন। এছাড়া ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (COO) কেভিন ল্যামুর অভিযোগ করেন, পুরো প্রকল্পটি নিয়ে সংস্থার অনেক কর্মকর্তাকেই অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।
এদিকে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের পরোক্ষ সম্পর্কের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কেরও জন্ম দেয়। ফলে ফুটবলের বাণিজ্যিক স্বার্থের পাশাপাশি এর স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত এক বিবৃতিতে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, এই পরিকল্পনা ফুটবল বিশ্বে অপ্রয়োজনীয় বিভাজন সৃষ্টি করেছে, যা খেলাটির স্বার্থের পরিপন্থী। তিনি বলেন, “ফুটবলের সবচেয়ে বড় শক্তি তার ঐক্য। তাই এই বিতর্কিত পরিকল্পনা আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার পর ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এর প্রভাব ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
