গান্ধী জয়ন্তী ২০২৬: রাজঘাটে শ্রদ্ধা রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর, পালিত শাস্ত্রী জয়ন্তীও
মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম ও লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর ১২২তম জন্মজয়ন্তীতে দেশজুড়ে শ্রদ্ধা নিবেদন। রাজঘাটে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সর্বধর্ম প্রার্থনা সভা।
গান্ধী জয়ন্তী ও শাস্ত্রী জয়ন্তীতে দেশজুড়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য, রাজঘাটে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
সিটি নিউজ বাংলা | ন্যাশনাল ডেস্ক
আজ ২ অক্টোবর, জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী। একই দিনে পালিত হচ্ছে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর ১২২তম জন্মজয়ন্তী। দুই মহান ব্যক্তিত্বের জন্মদিন উপলক্ষে শুক্রবার দেশজুড়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সত্য, অহিংসা, দেশপ্রেম ও মানবসেবার আদর্শকে স্মরণ করে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।

দিল্লির রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে আয়োজিত সর্বধর্ম প্রার্থনা সভাতেও অংশ নেন তাঁরা। গান্ধীজির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর জীবনদর্শন, স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা এবং অহিংসার বার্তা নতুন করে স্মরণ করা হয়।
অন্যদিকে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দিল্লির বিজয় ঘাটে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনায় শাস্ত্রীর অবদানের কথা স্মরণ করা হয়। তাঁর জনপ্রিয় স্লোগান ‘জয় জওয়ান, জয় কিষান’ আজও দেশের কৃষক ও সেনাবাহিনীর গুরুত্বকে তুলে ধরে।
আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস হিসেবেও বিশেষ তাৎপর্য
ভারতে গান্ধী জয়ন্তী পালনের পাশাপাশি ২ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস হিসেবেও সারা বিশ্বে পালিত হয়। রাষ্ট্রসংঘ ২০০৭ সালে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলন ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের দর্শনকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরাই এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।
গান্ধীজির রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি ছিল সত্যাগ্রহ ও অহিংসা। স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন, আইন অমান্য আন্দোলন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মতো কর্মসূচি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে নতুন দিশা দিয়েছিল।
স্বচ্ছতার বার্তায় পালিত হচ্ছে গান্ধী জয়ন্তী
গান্ধীজির পরিচ্ছন্নতা ও স্বচ্ছতার ভাবনাকে সামনে রেখে দেশজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিনই কেন্দ্রীয় সরকারের ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ শুরু হয়েছিল। সেই সূত্রে প্রতি বছর এই দিনটিতে পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা এবং পরিবেশ রক্ষার বার্তা বিশেষ গুরুত্ব পায়।
