১৭৪ প্রাণ বাঁচাতে রক্তাক্ত হয়েও লড়াই, ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতায় বিশ্বজুড়ে প্রশংসা
ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে সহ-পাইলটের ছুরির হামলায় গুরুতর আহত ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। রক্তাক্ত অবস্থাতেও তাঁর সাহসী ভূমিকা ও ১৭৪ যাত্রীর প্রাণরক্ষার ঘটনা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা।
রক্তাক্ত হয়েও ১৭৪ প্রাণ বাঁচানো ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে কুর্নিশ গোটা বিশ্বের
সিটি নিউজ বাংলা, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ৩ :
দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে মাঝআকাশে ঘটে গেল ভয়াবহ ঘটনা। ককপিটের ভিতরেই সহ-পাইলটের ছুরি নিয়ে হামলার শিকার হন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থাতেও পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারাননি তিনি। নিজের জীবন বিপন্ন জেনেও বিমানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার পাশাপাশি এমন পদক্ষেপ করেন, যার ফলে বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয় বলে জানা যাচ্ছে।

৩০ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনায় বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন কার্যত চরম বিপদের মুখে পড়ে। অভিযোগ, সহ-পাইলট ককপিটের ভিতরে ক্যাপ্টেন স্মিতের উপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান এবং বিমানটিকে বিপদের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেই মুহূর্তে ভয়াবহ আঘাত সত্ত্বেও স্মিত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এরপর বিমানের ক্রু ও যাত্রীরা এগিয়ে এসে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
ঘটনার পর গুরুতর জখম অবস্থায় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে প্রথমে সৌদি আরবের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দুবাইয়ে এয়ারলিফ্ট করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা, আন্তর্জাতিক মহলেও কুর্নিশ
ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতার খবর প্রকাশ্যে আসতেই দেশ-বিদেশে তাঁকে নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করে তাঁকে ‘প্রকৃত হিরো’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। চরম বিপদের মধ্যেও নিজের জীবন বাজি রেখে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করার জন্য তাঁর প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ভারতীয় এই পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তরফেও তাঁকে ‘রিয়েল হিরো’ হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নেতানিয়াহুর বক্তব্য অনুযায়ী, স্মিতের সাহসিকতার কারণে ৯/১১-র মতো ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্ভাবনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
গুজরাট সরকারের ‘গরিমা অ্যাওয়ার্ড’
ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের অসামান্য সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে গুজরাট সরকার তাঁকে রাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ ‘গরিমা অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়ার ঘোষণা করেছে। তাঁর এই সাহসিকতাকে রাজ্য তথা দেশের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছে বিভিন্ন মহল।
ক্রিকেটারদের কুর্নিশ
স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতায় মুগ্ধ ক্রীড়াজগতও। ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, যুবরাজ সিং-সহ একাধিক ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। নেটিজেনদের একাংশও তাঁকে ‘দেশের গর্ব’ এবং ‘হিরো’ বলে অভিহিত করছেন।
মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা
গুরুতর আহত পাইলটের দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। কাশী বিশ্বনাথ ও সোমনাথ মন্দিরেও তাঁর সুস্থতার জন্য বিশেষ পুজো ও মহামৃত্যুঞ্জয় জপের আয়োজন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
১৩ বছরেরও বেশি উড়ানের অভিজ্ঞতা
মুম্বইয়ের বাসিন্দা ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি বোয়িং ৭৩৭ বিমান ওড়াচ্ছেন। প্রায় চার বছর ধরে তিনি ফ্লাইদুবাইয়ের সঙ্গে যুক্ত। এর আগে প্রায় ১০ বছর স্পাইসজেটে কাজ করেছেন তিনি।
শান্ত ও ধীরস্থির স্বভাবের মানুষ হিসেবেই পরিচিত স্মিত মচ্ছর। কিন্তু পেশাগত জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি, সাহস এবং দায়িত্ববোধই এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে।
মাঝআকাশে নিজের জীবন বাজি রেখে বিমানে থাকা শতাধিক মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এই ঘটনায় ভারতীয় এই পাইলটের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন দেশ-বিদেশের বহু মানুষ। ‘ক্যাপ্টেন, তুমি হিরো—ভারত তোমাকে নিয়ে গর্বিত’—স্মিত মচ্ছরকে ঘিরে এখন এমনই বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।
