কুনোয় সুখবর! KGP12-এর ঘরে ৪ শাবক, ভারতে চিতার সংখ্যা ৫৬
কুনো ন্যাশনাল পার্কে ভারতীয় মাটিতে জন্ম নেওয়া মাদি চিতা KGP12 চারটি শাবকের জন্ম দিয়েছে। নতুন শাবক আসায় দেশে চিতার সংখ্যা বেড়ে ৫৬।
কুনোয় ফের সুখবর! কেজিপি১২-র ঘরে এল ৪ নতুন শাবক, দেশে চিতার সংখ্যা বেড়ে ৫৬

ভোপাল, এনভায়রনমেন্ট ডেস্ক ১১ : ভারতের চিতা সংরক্ষণ কর্মসূচিতে ফের বড় সাফল্য। মধ্যপ্রদেশের কুনো ন্যাশনাল পার্কে ভারতীয় মাটিতে জন্ম নেওয়া মাদি চিতা কেজিপি১২ (KGP12) আরও চারটি শাবকের জন্ম দিয়েছে। চার নতুন শাবকের জন্মের ফলে দেশে চিতার মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬টি। সরকারি তথ্য ও সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মধ্যে কুনো ন্যাশনাল পার্কে রয়েছে ৫৩টি চিতা, আর গান্ধী সাগর অভয়ারণ্যে রয়েছে ৩টি।
প্রজেক্ট চিতা ভারতে চার বছর পূর্ণ করার পরপরই এই নতুন প্রজন্মের আগমনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে এবার যে মাদি চিতা চারটি শাবকের জন্ম দিয়েছে, সে নিজেই ভারতের মাটিতে জন্ম নেওয়া চিতা—ফলে দেশের মাটিতে চিতা বংশবিস্তারের ধারাবাহিকতায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
গামিনীর বংশধর কেজিপি১২
কেজিপি১২-এর বংশপরিচয়ও এই ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। সে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে আনা মাদি চিতা গামিনীর প্রথম লিটারের দ্বিতীয় শাবক। অর্থাৎ, কেজিপি১২ ভারতেই জন্মেছে এবং এবার সেই ভারতীয় মাটিতে জন্ম নেওয়া চিতাই নিজে মা হয়ে চারটি শাবকের জন্ম দিল।
এর আগে চলতি বছর কেজিপি১২ প্রথমবার চারটি শাবকের জন্ম দিয়েছিল। তবে সেই প্রথম লিটারের চার শাবকই পরে একটি চিতাবাঘের আক্রমণে মারা যায় বলে প্রতিবেদন রয়েছে। এবার ফের চার শাবকের জন্ম হওয়ায় কুনোর বন্য পরিবেশে তাদের বেঁচে ওঠা ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার দিকে নজর থাকবে।
প্রজেক্ট চিতায় নতুন আশার আল
ভারতে চিতা পুনঃপ্রবর্তনের কর্মসূচি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালে শুরু হয়। ওই সময় নামিবিয়া থেকে প্রথম দফায় আটটি চিতা কুনো ন্যাশনাল পার্কে আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আরও চিতা ভারতে আসে। ২০২৬ সালে বতসোয়ানা থেকেও নতুন চিতা আনা হয়।
প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য হল ভারতে চিতার একটি স্থায়ী ও স্বনির্ভর জনসংখ্যা গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য পূরণে ভারতের মাটিতে জন্ম নেওয়া চিতাদের প্রজনন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এর আগে কুনোয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত মাদি চিতার প্রাকৃতিক পরিবেশে শাবক জন্ম দেওয়ার ঘটনাও প্রকল্পের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
৫৬-তে পৌঁছল ভারতের চিতা সংখ্যা
নতুন চার শাবকের জন্মের পর ভারতে চিতার মোট সংখ্যা এখন ৫৬। তার মধ্যে কুনোতেই রয়েছে ৫৩টি এবং মধ্যপ্রদেশের গান্ধী সাগর অভয়ারণ্যে রয়েছে আরও তিনটি। সাম্প্রতিক এই বৃদ্ধির ফলে দেশে চিতা পুনঃপ্রবর্তন কর্মসূচির পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে।
এদিকে চলতি বছরের মার্চেই নামিবিয়া থেকে আসা মাদি চিতা জ্বালা পাঁচটি শাবকের জন্ম দেওয়ার পর ভারতের মোট চিতার সংখ্যা ৫৩-তে পৌঁছেছিল। পরে কুনোয় জন্ম নেওয়া এবং বাইরে থেকে আসা চিতাদের সংখ্যা মিলিয়ে সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে।
সামনে বড় চ্যালেঞ্জ শাবকদের সুরক্ষা
নতুন চার শাবকের জন্মে যেমন আনন্দের খবর এসেছে, তেমনই তাদের নিরাপদে বড় করে তোলাও এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। কুনোর বন্য পরিবেশে শাবকদের স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে অন্যান্য শিকারি প্রাণীর উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর আগেও কেজিপি১২-র প্রথম লিটারের শাবকদের একটি চিতাবাঘের আক্রমণে মৃত্যু হয়েছিল।
ফলে এবার বনকর্মী, পশুচিকিৎসক এবং চিতা পর্যবেক্ষণকারী বিশেষজ্ঞদের নজর থাকবে মা চিতা ও চার শাবকের গতিবিধির ওপর। প্রাকৃতিক পরিবেশে তাদের অভিযোজন এবং শাবকদের টিকে থাকার হারই আগামী দিনে প্রজেক্ট চিতার সাফল্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠবে।
ভারতের মাটিতে জন্ম নেওয়া একটি চিতা যখন নিজেই পরবর্তী প্রজন্মের জন্ম দিচ্ছে, তখন কুনোর সংরক্ষণ প্রকল্পে সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজন্মগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। চার নতুন শাবককে ঘিরে তাই এখন কুনোর জঙ্গলজুড়ে নতুন আশার ছবি।
