PF-এর মজুরি সীমা ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার, ৫১ লক্ষ কর্মী পাবেন সামাজিক সুরক্ষা
EPFO-র বাধ্যতামূলক কভারেজের মজুরি সীমা ১৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করল কেন্দ্র। ৫১ লক্ষের বেশি কর্মী পাবেন PF, পেনশন ও বিমা-সুরক্ষার সুবিধা।
PF-এর মজুরি সীমা ১৫ হাজার থেকে বেড়ে ২৫ হাজার, বাড়ল ৫১ লক্ষ কর্মীর সামাজিক সুরক্ষা

নয়াদিল্লি, ন্যাশনল ডেস্ক ১২ : দেশের বেতনভোগী কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা কেন্দ্রীয় সরকারের। কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা আরও বিস্তৃত করতে Employees’ Provident Fund Organisation (EPFO)-এর অধীনে বাধ্যতামূলক কভারেজের মাসিক মজুরি সীমা বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এতদিন যে কর্মীদের মাসিক মজুরি ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়মে EPFO-র বাধ্যতামূলক কভারেজ প্রযোজ্য ছিল। এবার সেই সীমা বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা প্রতি মাস করা হয়েছে। নতুন নিয়মটি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে ৫১ লক্ষেরও বেশি অতিরিক্ত কর্মী প্রথমবারের মতো বাধ্যতামূলক EPFO কভারেজের আওতায় আসবেন বলে সরকারি তথ্য জানানো হয়েছে। এর ফলে শুধু ভবিষ্যতের জন্য PF সঞ্চয় নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী পেনশন এবং বিমা-সুরক্ষার সুবিধার সঙ্গেও যুক্ত হবেন।
১৫ হাজার থেকে সরাসরি ২৫ হাজার টাকা
EPFO-র মজুরি সীমা শেষবার বাড়ানো হয়েছিল ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে। তখন সীমা ৬,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা করা হয়েছিল। প্রায় ১২ বছর পর এবার ফের বড়সড় পরিবর্তন এনে সেই সীমা বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হল।
এর অর্থ, বর্তমানে কোনও কর্মী মাসে ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা মজুরি পেলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাঁকে আর বাধ্যতামূলক EPFO কভারেজের বাইরে থাকতে হবে না। নতুন নিয়মের ফলে এই বেতন-পরিসরের কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষার আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
PF-এ কর্মীর অবদান কত হতে পারে?
PF ব্যবস্থায় কর্মীর বেসিক মজুরি ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী কর্মীর কাছ থেকে সাধারণভাবে ১২ শতাংশ হারে অবদান নেওয়া হয়। ফলে ১৫ হাজার টাকার সীমায় কর্মীর নিজস্ব PF অবদানের হিসাব ১,৮০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। নতুন ২৫ হাজার টাকার সীমা কার্যকর হওয়ায় সর্বোচ্চ নির্ধারিত মজুরির ভিত্তিতে কর্মীর অবদান ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
তবে বাস্তবে PF কাটা হবে ঠিক কত টাকা, তা সংশ্লিষ্ট কর্মীর PF-যোগ্য মজুরি, সংস্থার নিয়ম এবং প্রযোজ্য EPFO বিধানের উপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ প্রত্যেক কর্মীর ক্ষেত্রে হাতে পাওয়া বেতনের প্রভাব এক রকম হবে না।
হাতে পাওয়া বেতন কিছুটা কমতে পারে
নতুন ব্যবস্থায় যাঁরা এতদিন ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে বেতন পেলেও বাধ্যতামূলক EPFO কভারেজের বাইরে ছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে PF-এ কর্মীর অবদান শুরু বা বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে মাসের শেষে Take-home salary বা হাতে পাওয়া বেতন কিছুটা কমতে পারে।
তবে একই সঙ্গে কর্মীর নামে PF অ্যাকাউন্টে নিয়মিত সঞ্চয় জমা হবে। অর্থাৎ মাসিক হাতে পাওয়া অর্থের একটি অংশ দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় হিসেবে জমা থাকবে, যা অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তায় কাজে আসতে পারে।
শুধু PF নয়, পেনশন ও বিমার সুবিধাও
কেন্দ্রের ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন করে EPFO-র আওতায় আসা কর্মীরা প্রযোজ্য স্কিমের নিয়ম মেনে Employees’ Provident Fund (EPF)-এর পাশাপাশি Employees’ Pension Scheme (EPS) এবং Employees’ Deposit Linked Insurance Scheme (EDLI)-এর সুবিধাও পাবেন।
অর্থাৎ এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু PF সঞ্চয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অবসরকালীন পেনশন এবং কর্মীর সঙ্গে সম্পর্কিত বিমা-সুরক্ষার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়বে।
সরকারের আর্থিক দায়ও বাড়বে
EPFO-র কভারেজ বাড়ানোর ফলে সরকারের আর্থিক দায়ও বাড়বে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থার কারণে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১১,৩৩৯ কোটি টাকা হতে পারে। পাঁচ বছরে এই ব্যয়ের পরিমাণ আনুমানিক ৫৬,৬৯৬ কোটি টাকা বলে হিসাব করা হয়েছে।
কেন্দ্রের বক্তব্য, মজুরি ও আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের পরিধি গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে। সেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই EPFO-র মজুরি সীমা সংশোধন করা হয়েছে।
৫১ লক্ষেরও বেশি কর্মীর জন্য নতুন দরজা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ৫১ লক্ষের বেশি অতিরিক্ত কর্মী বাধ্যতামূলক EPFO কভারেজের আওতায় আসার সুযোগ পাচ্ছেন।
কেন্দ্রের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য হল আরও বেশি কর্মীকে প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসা। একইসঙ্গে এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান বা formal employment-এর পরিধি আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন নিয়ম EPFO ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন পর বড় পরিবর্তন আনল। একদিকে নতুন কর্মীদের জন্য PF, পেনশন ও বিমা-সুরক্ষার সুযোগ বাড়ছে, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মাসিক বেতনের হাতে পাওয়া অংশে PF কাটার কারণে কিছুটা পরিবর্তনও দেখা যেতে পারে। ফলে কর্মীদের কাছে এই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়—দুই দিকই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
