নিউ টাউনে ২০০০ শয্যার হাসপাতাল, ৪০০০ কোটি বিনিয়োগের ঘোষণা আদানি গোষ্ঠীর
নিউ টাউনে ২০০০ শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’ হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ ও গবেষণা কেন্দ্র গড়ে উঠছে। প্রকল্পে ৪০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা। ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলায় ১ লক্ষ কোটি বিনিয়োগের পরিকল্পনা আদানি গোষ্ঠীর।
নিউ টাউনে ২০০০ শয্যার হাসপাতাল, ৪০০০ কোটি বিনিয়োগের ঘোষণা আদানি গোষ্ঠীর
২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের আশ্বাস গৌতম আদানির

কলকাতা, ২৪ সেপ্টেম্বর: পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বড় বিনিয়োগের ঘোষণা করল আদানি গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার নিউ টাউনে প্রস্তাবিত ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’ হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ ও গবেষণা কেন্দ্রের ভূমিপুজো এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি, তাঁর স্ত্রী প্রীতি আদানি, পুত্র করণ আদানি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রস্তাবিত এই হাসপাতালটি হবে প্রায় ২০০০ শয্যার। আদানি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এই প্রকল্পে প্রায় ৪০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া-২ এলাকায় প্রায় ৫১ থেকে ৫২ একর জমির উপর এই মেডিসিটি গড়ে ওঠার কথা।
অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে থাকা রোগীদের জন্য ১০০০ শয্যা
গৌতম আদানি জানিয়েছেন, হাসপাতালটি ‘নন-প্রফিট’ মডেলে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। মোট ২০০০ শয্যার মধ্যে প্রায় ১০০০টি শয্যা অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে বলে তিনি জানান। সরকারি বা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্পের আওতায় থাকা রোগীরাও এখানে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন বলে দাবি করা হয়েছে।
হাসপাতালের পাশাপাশি এখানে একটি বিশ্বমানের মেডিক্যাল কলেজ এবং গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে সরাসরি প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে বলে আদানি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের আশ্বাস
শুধু স্বাস্থ্যক্ষেত্র নয়, আগামী কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন গৌতম আদানি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে আদানি গোষ্ঠীর।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বণ্টন, রাস্তা, সেতু, বন্দর, লজিস্টিকস এবং ডেটা সেন্টারের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।
গৌতম আদানি পশ্চিমবঙ্গকে তাঁর ‘দ্বিতীয় কর্মভূমি’ হিসেবে উল্লেখ করে বাংলার অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সমুদ্রপথে যোগাযোগের গুরুত্ব।
হেরিটেজ সংরক্ষণেও আদানি গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ
শিল্প ও পরিকাঠামোর পাশাপাশি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য সংরক্ষণ নিয়েও এ দিনের অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়েছে। রাজ্যের পক্ষ থেকে মহাকরণ ও কুমারটুলি ঘাটের ঐতিহ্যবাহী কাঠামো পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব আদানি গোষ্ঠীর হাতে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতার কথাও জানানো হয়েছে।
দুর্গোৎসবকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও পরিচিত করে তুলতেও আদানি গোষ্ঠী সহযোগিতা করবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
তিন বছরের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য
রাজ্যের মুখ্যসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী তিন বছরের মধ্যে হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই দিনটিকে রাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বাংলার পরিকাঠামো ও শিল্পক্ষেত্রে আরও বিনিয়োগের জন্য আদানি গোষ্ঠীর সহযোগিতা চান।
স্বাস্থ্য পরিষেবা, মেডিক্যাল শিক্ষা, গবেষণা এবং কর্মসংস্থানকে একই পরিকাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসে নিউ টাউনের এই প্রকল্পকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘মেডিসিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
CT News Bangla | কলকাতা
