গোয়ায় ৯৭ ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় ফেরেনি, ৭ দিনে ECI-কে ৮ বার ই-মেল CEO-র
গোয়ায় ভোটার তালিকা সংশোধনের পর ৯৭ জনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় ফেরেনি। সাত দিনে ECI-কে ৮ বার ই-মেল করেও সফটওয়্যার সমস্যায় সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি।
গোয়ায় ৯৭ ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় ফেরেনি, সাত দিনে ECI-কে ৮ বার ই-মেল CEO-র
নিজস্ব সংবাদদাতা, সিটি নিউজ বাংলা

ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে গোয়ায়। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বাদ পড়া ৯৭ জন ভোটারকে যোগ করার জন্য গোয়ার Chief Electoral Officer (CEO)-এর দফতর মাত্র সাত দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে আটটি ই-মেল ও যোগাযোগ পাঠিয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সুবিধা সময়মতো চালু না হওয়ায় ওই ভোটারদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ফেরানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত ভোটার তালিকায় তথাকথিত ‘logical discrepancy’ চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া থেকে। পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তথ্যের মিল না থাকা, বাবা-মায়ের নামের অমিল বা বয়সের অসঙ্গতির মতো বিষয় সফটওয়্যারে ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম নিয়ে আপত্তি তৈরি হয়েছিল। পরে গোয়ার নির্বাচনী আধিকারিকরা নথি ও আপত্তি খতিয়ে দেখেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুনানিতে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৯৭ জনকে সংশ্লিষ্ট Electoral Registration Officer (ERO) এবং Assistant ERO-রা চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির যোগ্য বলে সিদ্ধান্ত নেন। অর্থাৎ মাঠপর্যায়ের আধিকারিকদের সিদ্ধান্ত ছিল ওই নামগুলি পুনরায় তালিকায় থাকা উচিত।
সমস্যা তৈরি হয় সফটওয়্যারে সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সময়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের সিদ্ধান্ত বাতিল বা ‘rollback’ করার প্রয়োজনীয় সুবিধা তখনও চালু হয়নি। ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গোয়ার CEO-র দফতর একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের কাছে এই সুবিধা চালু করার অনুরোধ জানায়। ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগের ই-মেল ও চিঠির কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি বলেও নথিতে উল্লেখ ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
১৪ ফেব্রুয়ারি গোয়ার Chief Electoral Officer বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠান। ১৭ ফেব্রুয়ারি, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের মাত্র কয়েক দিন আগে, ৯৭ জন ভোটারের নামের তালিকা পাঠিয়ে আগের সিদ্ধান্তগুলি সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়।
এর পরের দিন, ১৮ ফেব্রুয়ারি, নির্বাচন কমিশনের এক Deputy Election Commissioner-এর পক্ষ থেকে IT বিভাগের কাছে লেখা চিঠিতে বলা হয়, আইন অনুযায়ী ERO ও Assistant ERO-দের সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এবং সফটওয়্যার যেন সেই আইনগত ক্ষমতার প্রয়োগে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।
তবে প্রতিবেদনের দাবি, ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় ওই ৯৭ জনের নাম তাতে ছিল না। পরবর্তীতেও তাঁদের নাম তালিকায় ফেরেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মূল প্রশ্ন উঠেছে, আইন অনুযায়ী স্থানীয় নির্বাচনী আধিকারিকদের হাতে যদি ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষমতা থাকে, তা হলে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সফটওয়্যার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা এবং ভোটার তালিকা পরিচালনার সফটওয়্যার কাঠামো নিয়েও বৃহত্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের IT ব্যবস্থার কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণ এবং মাঠপর্যায়ের আধিকারিকদের প্রযুক্তিগত প্রবেশাধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
