বৃষ্টির পর রুঞ্জ নদীতে ‘হিরে’ খোঁজার হিড়িক, হাজার হাজার মানুষের ভিড় পান্নায়
বৃষ্টির পর মধ্যপ্রদেশের পান্নার রুঞ্জ নদীতে হিরে পাওয়ার আশায় হাজার হাজার মানুষের ভিড়। নদীর বালি-কাদা ছেঁকে চলছে হিরের সন্ধান, নিরাপত্তায় বন দফতরের কড়া পদক্ষেপ।
বৃষ্টির পর রুঞ্জ নদীতে ‘হিরে’ খোঁজার হিড়িক! হাজার হাজার মানুষের ভিড়

পান্না, ন্যাশনাল ডেস্ক ২ : বৃষ্টির পর নদীর বালি, কাদা আর কঙ্করের মধ্যে হিরে পাওয়ার আশায় মধ্যপ্রদেশের পান্না জেলার রুঞ্জ নদীর তীরে কার্যত জনস্রোত তৈরি হয়েছে। হিরে পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পান্না ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ নদীর পাড়ে পৌঁছে যাচ্ছেন। কেউ নদীর বালি ও মাটি ছেঁকে সম্ভাব্য হিরের সন্ধান করছেন, আবার কেউ নদীর ধারে অস্থায়ী তাঁবু খাটিয়ে দিনের পর দিন অবস্থান করছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, বিশ্রামগঞ্জ রেঞ্জের রুঞ্জ ড্যামের ডুব এলাকা সংলগ্ন নদীখাতে এই ভিড় সবচেয়ে বেশি দেখা গিয়েছে। কোথাও কয়েকশো মানুষ নদীতে নেমে পড়েছেন, আবার কিছু প্রতিবেদনে মোট জমায়েতের সংখ্যা কয়েক হাজার পর্যন্ত পৌঁছেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
বৃষ্টির পরই কেন হিরের আশায় ভিড়?
পান্না বহুদিন ধরেই ভারতের অন্যতম পরিচিত হিরে-উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত। বর্ষার সময়ে নদী-নালা দিয়ে মাটি ও কঙ্কর ধুয়ে আসার পর স্থানীয়ভাবে যাকে ‘চাল’ বলা হয়, সেই পলি ও কঙ্করের মধ্যে হিরে খোঁজার প্রচলন রয়েছে। সেই কারণেই বৃষ্টির পর রুঞ্জ নদীর তীরেও নতুন করে হিরে পাওয়ার আশায় মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।
তবে রুঞ্জ নদীতে সত্যিই বিপুল পরিমাণ হিরে ভেসে আসছে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। কোথাও হিরের টুকরো পাওয়ার খবর ছড়ানোর কথা বলা হয়েছে, আবার একটি স্থানীয় প্রতিবেদনে বন দফতরের তরফে বিষয়টিকে গুজব বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নদী থেকে ব্যাপক হিরে পাওয়ার দাবিকে এখনও নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।
নদীর পাড়ে তাঁবু, দিন-রাত চলছে তল্লাশি
হিরে পাওয়ার আশায় অনেকেই নদীর তীরে অস্থায়ী তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করছেন। বালি, কাদা ও ছোট ছোট পাথর ছেঁকে সম্ভাব্য মূল্যবান পাথরের সন্ধান করছেন তাঁরা। শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, উত্তরপ্রদেশ ও বুন্দেলখণ্ডের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ সেখানে পৌঁছেছেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কারণ পান্নার মাটিতে এর আগেও বড় আকারের হিরে পাওয়া গিয়েছে, যার ফলে বৃষ্টির পর নতুন করে হিরের সন্ধানে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তার কারণে কড়া পদক্ষেপ বন দফতরের
তবে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের নদী ও জঙ্গলের এলাকায় জমায়েতকে ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে প্রশাসনের মধ্যে। রুঞ্জ নদীর যে অংশে মানুষ ভিড় করেছেন, সেটি বনাঞ্চলের আওতাধীন বলে জানা গিয়েছে। নদীতে হঠাৎ জল বাড়া, পাড় ধসে যাওয়া, জঙ্গলে বন্যপ্রাণী ও বিষাক্ত সাপের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে সেখানে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
খবর পাওয়ার পর বন দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদী ও নদীর পাড়ে থাকা মানুষজনকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। পাশাপাশি এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে ফের বড় জমায়েত না হয় এবং অনুমতি ছাড়া খনন বা অন্য কোনও কার্যকলাপ না চলে।
এর আগেও পান্নায় মিলেছে কোটি টাকার সম্ভাবনাময় হিরে
পান্নায় হিরে পাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। চলতি বছরের আগস্টে জেলার সরকোহা এলাকার একটি অগভীর খনি থেকে সাতজন শ্রমিকের দল একটি জেম-কোয়ালিটি হিরে খুঁজে পেয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে হিরেটির ওজন ১৬.৯৬ থেকে ১৭.৯৬ ক্যারেট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আনুমানিক মূল্য ৫০ লক্ষ টাকার বেশি হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল। সরকারি নিলামের পরই প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হওয়ার কথা।
এই ধরনের ঘটনার পর রুঞ্জ নদীর হিরে-খোঁজার ঘটনাকে ঘিরে মানুষের উৎসাহ আরও বেড়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা ও বনাঞ্চলের নিয়ম মেনে চলার ওপরই জোর দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বৃষ্টির পর রুঞ্জ নদীর তীরে হিরের সন্ধানে মানুষের এই ভিড় এখন পান্নায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। নদীর বালি-কাদায় সত্যিই কতটা মূল্যবান পাথর মিলবে, নাকি গুজবকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে এই ‘হিরে-হিড়িক’—সেদিকেই এখন নজর।
