পুজোর আগেই বেহাল রাস্তা সারাই, ১০ অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষের নির্দেশ
দুর্গাপূজার আগে রাজ্যের বেহাল রাস্তা সংস্কারে কড়া নির্দেশ প্রশাসনের। ১০ অক্টোবরের মধ্যে গর্ত ভরাট ও প্যাচওয়ার্ক শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুজোর আগেই বেহাল রাস্তা সারাইয়ের নির্দেশ- ঃ কড়া বার্তা প্রশাসনের
স্টেট ডেস্ক ৫, মহালয়া ও দুর্গাপূজার আগে রাজ্যের রাস্তা নিয়ে বড়সড় তৎপরতা প্রশাসনের। বর্ষার দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত ভাঙাচোরা ও বেহাল রাস্তা মেরামতের কাজ শেষ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে যাতে কোনওরকম সমস্যা না হয় এবং যান চলাচল নিরাপদ থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই নির্দেশ বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

বর্ষার মরশুমে টানা বৃষ্টি ও জল জমার কারণে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বহু রাস্তার অবস্থা খারাপ হয়েছে। কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, কোথাও আবার রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে যান চলাচলের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে। গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি শহর ও শহরতলির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাতেও বর্ষার প্রভাব পড়েছে। দুর্গাপূজার আগে সেইসব রাস্তার পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১০ অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ
প্রশাসনের তরফে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ১০ অক্টোবরের মধ্যে রাস্তা মেরামতের কাজ শেষ করতে হবে। বিশেষ করে যে রাস্তাগুলি মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এবং যেসব রাস্তা পুজোর সময় বিপুল সংখ্যক মানুষের চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংস্কার করতে বলা হয়েছে।
মহালয়া থেকেই বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। দুর্গাপূজার দিনগুলিতে শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই মানুষের চলাচল কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে রাস্তার বেহাল দশা থাকলে যানজট, দুর্ঘটনা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। সেই কারণেই উৎসবের আগেই রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একাধিক দপ্তরকে দেওয়া হয়েছে দায়িত্ব
রাস্তা সংস্কারের এই কাজে একাধিক সরকারি দপ্তরকে যুক্ত করা হয়েছে। পূর্ত দপ্তর (PWD), পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন বিভাগ এবং নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দপ্তর নিজেদের আওতাধীন রাস্তার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ করবে।
শহরাঞ্চলের পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনকে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা চিহ্নিত করে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। একইভাবে গ্রামীণ এলাকার রাস্তার ক্ষেত্রেও পঞ্চায়েত ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আপাতত গর্ত ভরাট ও প্যাচওয়ার্কে জোর
বর্ষাকালে টানা বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গাতেই স্থায়ীভাবে রাস্তা সংস্কার করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই কারণে বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে গর্ত ভরাট, প্যাচওয়ার্ক এবং জরুরি ভিত্তিতে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করার কাজ করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবহাওয়া অনুকূলে এলে প্রয়োজনীয় জায়গায় স্থায়ীভাবে রাস্তা সংস্কারের কাজ করা হবে। তবে পুজোর আগে সাধারণ মানুষের যাতায়াত যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য আপাতত জরুরি মেরামতের কাজ দ্রুত শেষ করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
পুজোর মরশুমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখাই লক্ষ্য
দুর্গাপূজার সময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় বের হন। পুজোর কেনাকাটা, প্রতিমা দর্শন, আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়া কিংবা বিভিন্ন মণ্ডপে যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই সড়কপথের উপর নির্ভরতা বাড়ে। ফলে রাস্তার অবস্থা ভালো না থাকলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি যানজটের আশঙ্কাও থাকে।
প্রশাসনের এই নির্দেশের মূল উদ্দেশ্য হল মহালয়া ও দুর্গাপূজার আগে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলিকে নিরাপদ ও চলাচলের উপযোগী করে তোলা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নজরদারি করা হবে বলেও জানা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে পুজোর আগে রাজ্যের রাস্তা সংস্কারে জোর দেওয়া হয়েছে। বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার দ্রুত গর্ত ভরাট থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় স্থায়ী সংস্কার—সব ক্ষেত্রেই কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাস্তা মেরামতের কাজ শেষ হলে উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ হবে।
