রেজিনগর উপনির্বাচনে উত্তেজনা, ভোটের মাঝেই হুমায়ুন কবীর আটক
রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের মাঝেই উত্তেজনা। নির্বাচনী বিধিভঙ্গ ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে AJUP প্রধান হুমায়ুন কবীরকে আটক করেছে পুলিশ।
রেজিনগরের উপনির্বাচনে উত্তেজনা, ভোটের মাঝেই হুমায়ুন কবীরকে আটক করল পুলিশ

মুর্শিদাবাদ, স্টেট ডেস্ক ১০ : রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালীনই তৈরি হল উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রধান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে আটক করল পুলিশ। নির্বাচনী বিধিভঙ্গ, উস্কানিমূলক আচরণ এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ভোটের দিন সকাল থেকেই রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। হুমায়ুন কবীর নিজের বাড়ির সামনে এবং ভোটকেন্দ্রের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে ভোট দিয়ে বেরিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি।
পুলিশের বিরুদ্ধে ‘ভোট লুট’-এর অভিযোগ
ভোট দিয়ে বেরনোর পর হুমায়ুন কবীর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে এবং ভোট প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে ‘ভোট লুট’ এবং ‘দালালি’-র মতো গুরুতর অভিযোগও করেন তিনি।
তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
দলীয় কার্যালয়ে চরম উত্তেজনা
এরপর রেজিনগরে AJUP-এর দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছন হুমায়ুন কবীর। সেখানেই পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একসময় পরিস্থিতি হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির পর্যায়ে পৌঁছে যায় বলে অভিযোগ।
এরপর পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশকর্মীরা তাঁকে জামা ধরে টেনে-হিঁচড়ে দলীয় কার্যালয় থেকে বের করে গাড়িতে তোলেন। পরে তাঁকে রেজিনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভোটের দিন এমন ঘটনা ঘিরে এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য কী?
বেলডাঙ্গা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বা SDPO জানিয়েছেন, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগেই হুমায়ুন কবীরকে আটক করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে কোনওভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন কড়া অবস্থান নিয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনী বিধি মেনে ভোটগ্রহণ পরিচালনা এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সেই পরিস্থিতিতে কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতা আইন ভাঙলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের নজরেও ঘটনা
হুমায়ুন কবীরকে আটকের ঘটনা পৌঁছেছে নির্বাচন কমিশনের কাছেও। এই ঘটনার বিষয়ে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে বলে জানা গিয়েছে।
ভোটগ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একজন রাজনৈতিক দলের প্রধান তথা বিধায়ককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচন কমিশনের নজরদারি আরও বাড়তে পারে। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনিক রিপোর্ট পাওয়ার পর কমিশন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
ভোটের দিনেই বাড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ
রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন এমনিতেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তার মধ্যে ভোটগ্রহণ চলাকালীন হুমায়ুন কবীরকে আটক করার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
একদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন হুমায়ুন কবীর, অন্যদিকে পুলিশ নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার অভিযোগে তাঁকে আটক করেছে। ফলে দু’পক্ষের বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এখন মূল প্রশ্ন, হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয় এবং নির্বাচন কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর এই ঘটনাই রেজিনগরের উপনির্বাচনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
