আরজি করের নির্যাতিতাকে স্মরণে রাজ্যজুড়ে ২ মিনিট নীরবতা, CBI তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন
আরজি কর-কাণ্ডের দুই বছর পূর্তিতে রাজ্যজুড়ে সরকারি হাসপাতালে ২ মিনিট নীরবতা পালন। একইসঙ্গে CBI তদন্তের গতি নিয়ে পথে জুনিয়র চিকিৎসকরা।
আরজি করের নির্যাতিতাকে স্মরণে রাজ্যজুড়ে ২ মিনিট নীরবতা
সিটি নিউজ বাংলা, স্টেট ডেস্ক, ৯ আগস্ট: আরজি করের ঘটনার দুই বছর পূর্তিতে নির্যাতিতাকে স্মরণ করে রবিবার সকাল ১১টায় কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে দুই মিনিটের নীরবতা পালন করা হল। চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা নীরবতা পালনের মাধ্যমে ‘অভয়া’র প্রতি শ্রদ্ধা জানান। স্বাস্থ্য দফতরেও একই কর্মসূচি পালিত হয়। উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।

এটাই প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে আরজি করের নির্যাতিতাকে স্মরণ করে এমন কর্মসূচি নেওয়া হল। শনিবার স্বাস্থ্য ভবনের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছিল, ৯ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে ১১টা ২ মিনিট পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। সেই নির্দেশ মেনে কলকাতা, হুগলি, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ, ডায়মন্ড হারবার, মেদিনীপুর-সহ বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে কর্মসূচি পালিত হয়।
অন্যদিকে, আরজি কর-কাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে রবিবার দুপুরে পথে নামছে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট। দুপুর দেড়টায় কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মূল স্লোগান— ‘আর কতদিন সময় চাই? জবাব দাও CBI।’
জুনিয়র চিকিৎসকদের অভিযোগ, কলকাতা হাইকোর্টে শুনানির সময় সিবিআই জানিয়েছে, ঘটনার আগের রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে যাঁরা একসঙ্গে খাবার খেয়েছিলেন, তাঁদের বয়ান নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুই বছর পর তদন্তের এমন গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হওয়ায় তদন্তের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ফ্রন্ট।
তাঁদের বক্তব্য, প্রতিটি বিলম্ব শুধু একটি মামলার তদন্তকে পিছিয়ে দেয় না, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা, সমাজের আস্থা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের বিশ্বাস। দ্রুত তদন্ত শেষ করে সত্য সামনে আনা এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা।
এদিকে, আরজি কর-কাণ্ডের বিভিন্ন দিক নতুন করে খতিয়ে দেখতে পৃথক তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য দফতরও। ঘটনার আগে ও পরে হাসপাতালে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাগত কোথায় কোথায় গাফিলতি ছিল, কীভাবে সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেই ফাঁকগুলি কীভাবে পূরণ করা হয়েছে—সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ফলে একদিকে সরকারি হাসপাতালে নীরবতা পালনের মাধ্যমে নির্যাতিতাকে স্মরণ, অন্যদিকে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রশ্ন—আরজি কর-কাণ্ডের দুই বছর পূর্তিতে ফের একবার সামনে এল ন্যায়বিচারের দাবি।
