সাগরদিঘিতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্নান, প্লাস্টিক-আবর্জনা! কচ্ছপ মৃত্যু ঘিরে উদ্বেগ
কোচবিহারের সাগরদিঘিতে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও স্নান, প্লাস্টিক ও আবর্জনা ফেলার অভিযোগ। একাধিক কচ্ছপের মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে পরিবেশ দূষণ ও নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ।
নিষেধাজ্ঞা সত্বেও সাগরদিঘিতে স্নান- প্লাস্টিক-আবর্জনা!
কচ্ছপ মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
কোচবিহার, লোকাল ডেস্ক ১৩ : কোচবি

হারের ঐতিহ্যবাহী সাগরদিঘির পরিবেশ ও জলজ প্রাণীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্নান নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এখনও সকালে কিছু মানুষকে দীঘির জলে স্নান করতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ। একইসঙ্গে সন্ধ্যার পর দীঘির পাড়ে বসা ফাস্টফুডের দোকানগুলি থেকে ব্যবহৃত থালা-বাটি, প্লাস্টিকের বোতল এবং অন্যান্য বর্জ্য দীঘির জলে ফেলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, নিয়মিতভাবে এই ধরনের প্লাস্টিক ও আবর্জনা দীঘির জলে পড়ার ফলে ধীরে ধীরে দূষিত হচ্ছে সাগরদিঘির জল। শুধু পরিবেশের উপর নয়, এর প্রভাব দীঘিতে থাকা জলজ প্রাণীদের উপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি সাগরদিঘিতে একাধিক কচ্ছপের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসায় সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চলছে স্নান
সাগরদিঘির জল ও পরিবেশের কথা মাথায় রেখে সেখানে স্নানের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে জানা যায়। কিন্তু অভিযোগ, সেই নিষেধাজ্ঞা সবসময় কার্যকর হচ্ছে না। বিশেষ করে সকালবেলা কিছু মানুষকে এখনও দীঘির জলে স্নান করতে দেখা যাচ্ছে।
এর ফলে শুধু জলদূষণের আশঙ্কাই নয়, প্রশাসনের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ঐতিহ্যবাহী এই জলাশয়ের পরিবেশ বজায় রাখতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ সচেতন মানুষজন।
ফাস্টফুডের দোকানের বর্জ্য নিয়েও অভিযোগ
সাগরদিঘির পাড়ে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন ফাস্টফুডের দোকান বসে। অভিযোগ, দোকানগুলিতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট, থালা-বাটি-সহ নানা ধরনের বর্জ্য অনেক সময় সঠিকভাবে নির্দিষ্ট জায়গায় না ফেলে দীঘির জলে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।
এই ধরনের বর্জ্য দীর্ঘদিন জলে জমতে থাকলে জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে প্লাস্টিক ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য জলজ প্রাণীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
কচ্ছপের মৃত্যু ঘিরে উঠছে প্রশ্ন
সাগরদিঘিতে সম্প্রতি একাধিক কচ্ছপের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জলদূষণের সঙ্গে এই মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে না এলেও পরিবেশগত কারণ খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
বিশ্ব রাজবংশী উন্নয়ন মঞ্চের সভাপতি পার্থ বর্মন অভিযোগ করেছেন, সাগরদিঘিতে স্নান নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি দীঘির জলে নিয়মিত প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য পড়ায় জল দূষিত হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর। তাঁর আশঙ্কা, এই দূষণের কোনও প্রভাব কচ্ছপগুলির মৃত্যুর ক্ষেত্রে পড়ে থাকতে পারে।
তবে কচ্ছপগুলির মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। শুধুমাত্র জলদূষণকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার আগে বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কঠোর নজরদারি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি
সাগরদিঘির পরিবেশ রক্ষা করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে। পাশাপাশি দীঘির পাড়ে বসা দোকানগুলির জন্য নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করা, প্লাস্টিক ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ এবং জলাশয়ে আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে নিয়মিত নজরদারি চালানোর দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, সাগরদিঘি শুধু একটি জলাশয় নয়, কোচবিহারের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তাই এর জল ও পরিবেশ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে দীঘিতে থাকা কচ্ছপ-সহ জলজ প্রাণীদের সুরক্ষার জন্যও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এখন নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সাগরদিঘিতে স্নানের নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর করা হয় এবং দীঘির জলে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই দেখার।
