তোরসা ব্রিজের সামনে বিকল ট্রাক, ৩ ঘণ্টা যানজটে নাকাল সাধারণ মানুষ
তোরসা ব্রিজের সামনে বিকল ট্রাক দাঁড়িয়ে পড়ায় দিনহাটা-মাথাভাঙা জাতীয় সড়কে ২-৩ ঘণ্টা তীব্র যানজট। ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় পরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।
তোরসা ব্রিজের সামনে বিকল ট্রাক, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে নাকাল সাধারণ মানুষ

কোচবিহার, লোকাল ডেস্ক ১২ : দিনহাটা-মাথাভাঙা জাতীয় সড়কের গুরুত্বপূর্ণ তোরসা ব্রিজের সামনে একটি ট্রাক বিকল হয়ে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হল। ট্রাকটি রাস্তার একটি বড় অংশ আটকে দেওয়ায় ব্যস্ত সড়কে যান চলাচল কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে এই পরিস্থিতি চলায় চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হঠাৎ করেই তোরসা ব্রিজের সামনে একটি ট্রাক বিকল হয়ে যায়। ব্যস্ত জাতীয় সড়কের উপর ট্রাকটি দাঁড়িয়ে পড়ায় দ্রুতই দু’দিকে গাড়ির লম্বা লাইন তৈরি হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যানজটের পরিমাণ আরও বাড়তে থাকে। একসময় দিনহাটা-মাথাভাঙা রাস্তায় যান চলাচল প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায়।
স্কুল পড়ুয়া থেকে অফিসযাত্রী, ভোগান্তি সর্বত্র
দীর্ঘক্ষণ ধরে যানজট চলায় ব্যাপক সমস্যায় পড়েন নিত্যযাত্রীরা। স্কুল পড়ুয়া, কলেজ পড়ুয়া, অফিসগামী কর্মী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রী—সকলকেই দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে থাকতে হয়।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হয়ে ওঠে জরুরি পরিষেবার গাড়িগুলিকে নিয়ে। যানজটের কারণে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও দীর্ঘক্ষণ আটকে পড়ে বলে জানা যায়। ফলে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে থাকা রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
ঘটনাস্থলে ট্রাফিক পুলিশ, শুরু হয় যানজট নিয়ন্ত্রণের কাজ
পরিস্থিতির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ট্রাফিক পুলিশ। যানজটের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে শুরু হয় রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ। ডিএসপি (ট্রাফিক) বিক্রম প্রসাদ, ট্রাফিক ওসি সুরেশ দাস-সহ অন্যান্য ট্রাফিক আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর হন।
দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে রাস্তার মাঝখান থেকে বিকল ট্রাকটি সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। এরপর ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় ধীরে ধীরে রাস্তায় আটকে থাকা গাড়িগুলিকে চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া হয়। বেশ কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হতে শুরু করে দিনহাটা-মাথাভাঙা সড়কের যান চলাচল।
ব্যস্ত সড়কে নজরদারি বাড়ানোর দাবি
তোরসা ব্রিজ সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এ ধরনের ঘটনা যাতে দীর্ঘক্ষণ যানজটের কারণ না হয়ে ওঠে, তার জন্য প্রশাসনের আরও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে ব্যস্ত জাতীয় সড়কে কোনও ভারী গাড়ি বিকল হয়ে পড়লে দ্রুত সেটিকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন যাত্রীরা।
এদিনের ঘটনায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটলেও কয়েক ঘণ্টার যানজটে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠে। ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও, ব্যস্ত সড়কে বিকল ভারী যানবাহন নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে এমন ভোগান্তি না হয়, সেই দাবিই জোরালো হয়েছে।
