
দেশি ধানের সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ Seed Festival 2026
নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট:
দেশি ধানের সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব কৃষি এবং বিলুপ্তপ্রায় ধানের জাতকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে বালুরঘাটে অনুষ্ঠিত হল একদিনের দেশি ধানের বীজ উৎসব। দক্ষিণ দিনাজপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দিশারী সংকল্প-এর উদ্যোগে বালুরঘাট সংলগ্ন অযোধ্যা কালিদাসী বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
অযোধ্যা, হাসইল, কাশিম্বি, সাঁতরাই, বান্নাপাড়া, লোহারপাড়া, শালগ্রাম-সহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাধাতিলক, বালাম, কালিখাসা, দুধেশ্বর, দাদখানি, তুলাইপাঞ্জি-সহ প্রায় দশ ধরনের দেশি ধানের বীজ হাতে নিয়ে সেগুলির বৈশিষ্ট্য, পুষ্টিগুণ, চাষপদ্ধতি ও সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাহিনগর কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সহ কৃষি অধিকর্তা (প্রশিক্ষণ) তথাগত নাথ, কৃষি বিশেষজ্ঞ পলাশ মণ্ডল, পরিমল মণ্ডল এবং শ্যামল বাস্কে। তাঁরা প্রায় পনেরো জন কৃষককে দেশি ধানের চাষের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বহু কৃষক কালিখাসা ও কামিনীভোগ-সহ বিভিন্ন দেশি ধানের বীজ সংগ্রহ ও চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
রাজ্য জীববৈচিত্র্য পর্ষদের উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কো-অর্ডিনেটর তমাল মণ্ডল বলেন, “কৃষকদের আগ্রহ দেখে খুবই ভালো লাগছে। তাঁদের হাত ধরেই দেশি ধানের বীজকে আবার গ্রামে-গঞ্জে ফিরিয়ে আনতে হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশি ধানের চাষে তুলনামূলকভাবে কম জল লাগে, রাসায়নিক নির্ভরতা কমে এবং পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় থাকে। পাশাপাশি বাজারে দেশি চালের চাহিদা বাড়ায় কৃষকদের জন্য এটি লাভজনক ফসল হিসেবেও উঠে আসতে পারে।
দিশারী সংকল্পের সম্পাদক তুহিনশুভ্র মণ্ডল বলেন, “বালুরঘাট তথা দক্ষিণ দিনাজপুরে দেশি ধানের চাষকে জনপ্রিয় করে তোলাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও দেশি ধানের সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রকৃতির নিজস্ব ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে আরও বেশি করে দেশি ধান ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার নিয়েই আমরা কাজ করছি।”
