বাতিল ১,৩০০-র বেশি ফ্লাইট! ব্রিটেনে এয়ার ট্রাফিক বিপর্যয়ে চরম ভোগান্তি
যুক্তরাজ্যে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে বাতিল ১,৩০০-র বেশি ফ্লাইট। হিথরো-সহ একাধিক বিমানবন্দরে চরম ভোগান্তিতে হাজার হাজার যাত্রী।
বাতিল ১৩০০-র বেশি ফ্লাইট! চরম ভোগান্তিতে হাজার হাজার যাত্রী

লন্ডন, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ৩ : এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থায় বড়সড় কারিগরি ত্রুটির জেরে কার্যত অচল হয়ে পড়ল যুক্তরাজ্যের বিমান পরিষেবা। মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২ ৬-এ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। এর জেরে বাতিল হয়েছে প্রায় ১,৩০০টি বিমান, আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দর ও রানওয়েতে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।
জানা গিয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রধান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সংস্থা NATS (National Air Traffic Services)-এর ফ্লাইট ডেটা প্রসেসিং সিস্টেমে গুরুতর প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও পরিচালনা করা হয়। ফলে একের পর এক বিমান পরিষেবা ব্যাহত হতে থাকে এবং দ্রুত পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে।
হিথরো থেকে এডিনবরা—বিমান পরিষেবায় ব্যাপক ধাক্কা
কারিগরি সমস্যার সরাসরি প্রভাব পড়ে যুক্তরাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে। বিশেষ করে লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর এবং এডিনবরার বিমানবন্দরে ফ্লাইটের সময়সূচি কার্যত ভেঙে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিথরো বিমানবন্দরকে সাময়িকভাবে সমস্ত আগমনী বিমান (arrivals) বন্ধ রাখতে হয়। এর ফলে আকাশপথে থাকা বিমানগুলিকে অন্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া বা অপেক্ষা করানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিমানবন্দরে পৌঁছে বহু যাত্রী জানতে পারেন, তাঁদের নির্ধারিত বিমান বাতিল হয়েছে অথবা সময় অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবারও কাটেনি বিপর্যয়ের রেশ
মঙ্গলবার NATS-এর পক্ষ থেকে প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান করার কথা জানানো হলেও তার প্রভাব বুধবারও পুরোপুরি কাটেনি। বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে সময় লাগায় নতুন করে একাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এভিয়েশন ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম FlightRadar24-এর তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর বুধবারও হিথরো-সহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে ১৫০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ফলে যাত্রীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং বিমানবন্দরে ভিড় আরও বেড়েছে।
British Airways ও Ryanair-এ বড় প্রভাব
এই প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের কারণে একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থার পরিষেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্রিটিশ বিমান সংস্থা British Airways-এর ১০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল অথবা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে কম খরচের বিমান পরিষেবা সংস্থা Ryanair-এর প্রায় ৬৫ হাজার যাত্রী এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাবে পড়েছেন। বহু যাত্রীর বিমান বাতিল হওয়ার পাশাপাশি নতুন করে টিকিট, বিকল্প বিমান ও থাকার ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
মুম্বই-লন্ডন Air India বিমানকে নামতে হল জুরিখে
ব্রিটেনের এই এয়ার ট্রাফিক বিপর্যয়ের প্রভাব আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবাতেও পড়েছে। মুম্বই থেকে লন্ডনগামী Air India-এর AI 131 বিমানকে নির্ধারিত গন্তব্যের পরিবর্তে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবতরণ করাতে হয়।
বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া এই সমস্যার কারণে আন্তর্জাতিক রুটের একাধিক বিমানকে বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানেই আটকে যাত্রী
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বহু বিমান রানওয়েতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে যাত্রীদের বিমানের ভিতরেই অপেক্ষা করতে হয়েছে। আবার অনেকে বিমানবন্দরের টার্মিনালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেছেন।
বিমান বাতিল বা দেরি হওয়ার সঠিক তথ্য সময়মতো না পাওয়া নিয়ে যাত্রীদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে অভিযোগ করেছেন, বিমান সংস্থা এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় তাঁদের অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা
NATS-এর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা মেরামতের পর বিমান পরিষেবা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তার প্রভাব পরবর্তী দিনগুলির বিমান সূচিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় সাময়িক প্রযুক্তিগত ত্রুটিও কীভাবে গোটা বিমান পরিবহণ ব্যবস্থাকে কার্যত অচল করে দিতে পারে, যুক্তরাজ্যের এই ঘটনা তারই বড় উদাহরণ। এখন দ্রুত পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করা এবং যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়াই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
