AI-এর জাদুতে আশির দশকে ফিরছে বর্তমানের ছবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন ট্রেন্ড
AI-এর সাহায্যে বর্তমানের সেলফি ও পোর্ট্রেটকে আশির দশকের ভিনটেজ লুকে রূপ দেওয়া হচ্ছে। পোশাক, চুল, ব্যাকগ্রাউন্ড ও ফিল্ম ক্যামেরার আবহে তৈরি হচ্ছে নস্টালজিক ছবি।
AI-এর জাদুতে আশির দশকে ফিরছে বর্তমানের ছবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন ট্রেন্ড

Sub-headline:
বর্তমানের সেলফি থেকে তৈরি হচ্ছে আশির দশকের ভিনটেজ পোর্ট্রেট। পোশাক, চুলের স্টাইল থেকে শুরু করে ব্যাকগ্রাউন্ড—AI বদলে দিচ্ছে ছবির পুরো আবহ।
CT News বাংলা ডেস্ক
সময়টা ২০২৬। হাতে স্মার্টফোন, ছবিও তোলা হচ্ছে মুহূর্তে। কিন্তু সেই আধুনিক ছবিই এবার ফিরে যাচ্ছে প্রায় চার দশক পিছনে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর সাহায্যে বর্তমানের ছবিকে আশির দশকের লুকে রূপ দেওয়ার ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
একটি সাধারণ সেলফি বা পোর্ট্রেট আপলোড করলেই AI-এর সাহায্যে ছবিতে যোগ করা যাচ্ছে সেই সময়ের পোশাক, চুলের স্টাইল, পুরনো স্টুডিওর আবহ এবং ফিল্ম ক্যামেরায় তোলা ছবির মতো টেক্সচার।
কীভাবে তৈরি হচ্ছে এই ছবি?
এই ট্রেন্ডের মূল আকর্ষণ হল—শুধু ছবির রং বদলানো নয়, AI পুরো ছবির পরিবেশকেই নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে মানানসই করে তুলছে।
ছবির নির্দেশনায় ১৯৮০-এর দশকের পোশাক, পুরনো দিনের স্টুডিও, উষ্ণ আলো, ৩৫ মিমি ফিল্মের দানা এবং ভিনটেজ ফটোগ্রাফির আবহ উল্লেখ করলে AI সেই অনুযায়ী নতুন ছবি তৈরি করছে।
অনেক ক্ষেত্রেই চেষ্টা করা হচ্ছে ব্যক্তির মুখের মূল বৈশিষ্ট্য ও স্বাভাবিক অভিব্যক্তি বজায় রাখার।
Instagram-এও নজর কাড়ছে ট্রেন্ড
Instagram-এর বিভিন্ন ফিচার ব্যবহার করে এই ধরনের AI ছবি একে অপরের সঙ্গে শেয়ার করছেন ব্যবহারকারীরা। কেউ নিজের বর্তমান ছবিকে আশির দশকের লুকে দেখছেন, আবার কেউ সেই সময়ের সিনেমা, পারিবারিক অ্যালবাম কিংবা স্টুডিও পোর্ট্রেটের মতো করে ছবি তৈরি করছেন।
ফলে ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গে AI প্রযুক্তির মিশেলে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের ডিজিটাল নস্টালজিয়া।
বাঙালি আবহেও তৈরি করা সম্ভব
এই ট্রেন্ডের আরও একটি আকর্ষণীয় দিক হল, শুধু সাধারণ ‘80s Look’ নয়, নির্দিষ্ট অঞ্চল বা সংস্কৃতির আবহও ছবিতে আনা যায়।
যেমন—আশির দশকের বাঙালি পোশাক, পুরনো কলকাতার রাস্তা, বাংলা সিনেমার পোস্টার, পুরনো স্টুডিও বা মধ্যবিত্ত পরিবারের বসার ঘরের মতো পরিবেশ যোগ করে ছবিকে আরও নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব।
তবে সাবধানতাও জরুরি
AI দিয়ে তৈরি ছবি যতই বাস্তবসম্মত হোক, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশের আগে ছবিটি ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি। বিশেষ করে মুখের গঠন, হাত ও আঙুল, চোখ, ব্যাকগ্রাউন্ড এবং ছবিতে থাকা লেখা অনেক সময় AI ভুলভাবে তৈরি করতে পারে।
পাশাপাশি, অন্য কারও ছবি ব্যবহার করে AI ছবি তৈরির ক্ষেত্রে অবশ্যই তাঁর অনুমতি নেওয়া উচিত।
প্রযুক্তি যখন ফিরিয়ে দেয় ‘হারানো সময়’
AI হয়তো সত্যিকারের অতীত ফিরিয়ে দিতে পারে না। কিন্তু একটি বর্তমান ছবিকে ব্যবহার করে অতীতের একটি কল্পিত সংস্করণ তৈরি করার সুযোগ করে দিচ্ছে।
আর সেই কারণেই সোশ্যাল মিডিয়ার এই ট্রেন্ড শুধু আরেকটি ভাইরাল ফিল্টার নয়—অনেকের কাছে এটি নিজেকে অন্য এক সময়ের চোখে দেখার এক অভিনব অভিজ্ঞতা।
