দেশের প্রথম বন্দে ভারত মালবাহী ট্রেনের সফল ট্রায়াল, ১৪৫ কিমি গতিতে ছুটল Freight EMU
দেশের প্রথম বন্দে ভারত Freight EMU-এর সফল ট্রায়াল রান। কোটা-রোহাল খুর্দ সেকশনে ১৪৫ কিমি গতিতে ছুটল ১৬ কোচের মালবাহী ট্রেন।
দেশের প্রথম বন্দে ভারত মালবাহী ট্রেনের সফল ট্রায়াল, সর্বোচ্চ গতি ১৪৫ কিমি
সিটি নিউজ বাংলা, ন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতীয় রেলের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দেশের প্রথম বন্দে ভারত মালবাহী বা Freight EMU ট্রেনের ট্রায়াল রান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পশ্চিম মধ্য রেলের কোটা ডিভিশনের কোটা-রোহাল খুর্দ সেকশনে এই পরীক্ষামূলক যাত্রায় ট্রেনটি সর্বোচ্চ ১৪৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগ তুলেছে। উচ্চগতির এই মালবাহী ট্রেনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পার্সেল এবং জরুরি পণ্য আরও দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

১৬ কোচের এই বিশেষ ট্রেনটি মূলত দ্রুত ও দক্ষ পণ্য পরিবহণের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। যাত্রী পরিবহণের পাশাপাশি দেশের রেলপথকে আরও বেশি করে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহণে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোটা ডিভিশনে সফল ট্রায়াল
পশ্চিম মধ্য রেলের কোটা ডিভিশনের কোটা-রোহাল খুর্দ সেকশনে এই ট্রায়াল রান চালানো হয়। পরীক্ষামূলক যাত্রার সময় ট্রেনটির গতি ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটারেরও বেশি রাখা হয় এবং সর্বোচ্চ ১৪৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে পৌঁছয়।
ট্রায়ালের মাধ্যমে ট্রেনটির উচ্চগতিতে চলার সক্ষমতা, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে।
ICF ও RDSO-এর যৌথ উদ্যোগ
এই অত্যাধুনিক মালবাহী ট্রেনের প্রযুক্তিগত পরীক্ষা পরিচালনা করছে চেন্নাইয়ের Integral Coach Factory (ICF) এবং Research Designs and Standards Organisation (RDSO)।
রেলের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার বিশেষজ্ঞরা ট্রেনটির গতি, ব্রেকিং ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করছেন। উচ্চগতিতে মালবাহী ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে ট্রেনটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই পরীক্ষার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
১৬ কোচের বিশেষ মালবাহী ট্রেন
দেশের প্রথম বন্দে ভারত Freight EMU-তে মোট ১৬টি কোচ রয়েছে। সাধারণ মালবাহী ট্রেনের তুলনায় এই ট্রেনকে দ্রুতগতিতে পণ্য পরিবহণের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।
বিশেষ করে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া দরকার এমন পার্সেল, জরুরি পণ্য এবং সময়-সংবেদনশীল সামগ্রী পরিবহণে এই ট্রেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
একবারে ২৬৪ টন পর্যন্ত পণ্য বহনের ক্ষমতা
এই মালবাহী ট্রেন একসঙ্গে প্রায় ২৬৪ টন পর্যন্ত পণ্য বহন করতে সক্ষম। ফলে দ্রুতগতির পাশাপাশি যথেষ্ট পরিমাণ পণ্য পরিবহণের সুবিধাও থাকবে।
এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দ্রুত পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি রেলপথে লজিস্টিক পরিষেবার গতি বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।
বিশেষ রোলার ফ্লোর, রয়েছে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের সুবিধা
ট্রেনটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল বিশেষ রোলার ফ্লোর ব্যবস্থা। এর ফলে মালপত্র ওঠানো এবং নামানোর কাজ তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও সহজে করা যাবে।
এছাড়াও ট্রেনে রয়েছে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত বা Reefer সুবিধা। এর ফলে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা প্রয়োজন এমন পণ্যও পরিবহণ করা সম্ভব হবে। খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ বা অন্যান্য তাপমাত্রা-সংবেদনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে।
ট্রায়ালে একাধিক প্রযুক্তিগত পরীক্ষা
শুধু সর্বোচ্চ গতিবেগ পরীক্ষা করাই নয়, ট্রায়াল রানের সময় ট্রেনটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত দিক যাচাই করা হয়েছে।
এর মধ্যে ছিল উচ্চগতিতে গতি নিয়ন্ত্রণ, ব্রেকিং পারফরম্যান্স, ট্রেনের স্থিতিশীলতা এবং থার্মাল ক্যাপাসিটি বা তাপীয় সক্ষমতা পরীক্ষা। দ্রুতগতিতে দীর্ঘ সময় চলার সময় ট্রেনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কীভাবে কাজ করছে, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
পণ্য পরিবহণে আসতে পারে নতুন গতি
ভারতীয় রেলে বর্তমানে পণ্য পরিবহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য সড়কপথের উপর নির্ভর করতে হয়। বন্দে ভারত Freight EMU-এর মতো উচ্চগতির মালবাহী ট্রেন চালু হলে রেলপথে সময়-সাশ্রয়ী পণ্য পরিবহণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে দ্রুত সরবরাহ প্রয়োজন এমন পণ্য, পার্সেল এবং তাপমাত্রা-নিয়ন্ত্রিত পণ্য পরিবহণে এই পরিষেবা কার্যকর হতে পারে।
‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ প্রযুক্তির আরও এক নজির
দেশীয় প্রযুক্তি ও রেল উৎপাদন পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে তৈরি এই ট্রেন ভারতের দ্রুতগতির রেল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। ICF এবং RDSO-এর যৌথ প্রযুক্তিগত পরীক্ষার মাধ্যমে ট্রেনটির কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে।
সফল ট্রায়ালের পর ভবিষ্যতে এই ধরনের Freight EMU বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে দেশের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। দ্রুত, নির্ভরযোগ্য এবং তাপমাত্রা-নিয়ন্ত্রিত পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে ভারতীয় রেল নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
