অ্যাস্টন মার্টিনের ধাক্কায় তরুণীর মৃত্যু, সাংসদ-পুত্রের বিরুদ্ধে মামলা
হায়দরাবাদের মাধাপুরে অ্যাস্টন মার্টিনের ধাক্কায় ২৬ বছরের তরুণীর মৃত্যু। জনসেনা সাংসদের ২১ বছরের ছেলের বিরুদ্ধে BNS ১০৬(১) ধারায় মামলা, তদন্তে সিসিটিভি ও FSL রিপোর্ট খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বিলাসবহুল অ্যাস্টন মার্টিনের ধাক্কায় তরুণীর মৃত্যু, সাংসদ-পুত্রের বিরুদ্ধে মামলা
হায়দরাবাদ: হায়দরাবাদের মাধাপুরে ইনঅরবিট মলের সামনে দ্রুতগতির বিলাসবহুল গাড়ির ধাক্কায় এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ বছরের ভারতী মুখী। এই ঘটনায় জনসেনা পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ লিঙ্গামানেনি রমেশের ২১ বছরের ছেলে লিঙ্গামানেনি সঞ্জুশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে মাধাপুর থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৬ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ৩টে নাগাদ ইনঅরবিট মলের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ভারতী মুখী ওই মলের ‘লাইফস্টাইল’ স্টোরে সেলসওম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুপুরের খাবার খেয়ে এক সহকর্মীর সঙ্গে রাস্তা পার হওয়ার সময় আচমকাই দ্রুতগতিতে আসা একটি অ্যাস্টন মার্টিন গাড়ি তাঁকে ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ।
দুর্ঘটনার জেরে গুরুতর আহত হন ভারতী। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনায় মাধাপুর থানার পুলিশ লিঙ্গামানেনি সঞ্জুশের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১০৬(১) ধারায় মামলা রুজু করেছে। অসাবধানতা বা বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ফলে কারও মৃত্যু হলে এই ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত অ্যাস্টন মার্টিন গাড়িটি ইতিমধ্যেই জব্দ করেছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত সঞ্জুশকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট অপরাধটি জামিনযোগ্য হওয়ায় এখনও তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি।
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ—দুর্ঘটনার সময় গাড়ির চালক মদ্যপ বা কোনও ধরনের মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন কি না। বিষয়টি নিশ্চিত করতে অভিযুক্তের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে (FSL) পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে আসার পর তদন্তে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। গাড়িটির গতি কত ছিল, রাস্তা পার হওয়ার সময় ভারতী ও তাঁর সহকর্মী ঠিক কোথায় ছিলেন এবং দুর্ঘটনার মুহূর্তে গাড়িচালকের ভূমিকা কী ছিল—সহ একাধিক বিষয় তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান মিলিয়ে দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।
একজন তরুণ কর্মজীবী মহিলার এভাবে প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয় স্তরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিবারের সঙ্গে যোগসূত্র থাকায় ঘটনাটি আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
