কাছাড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে দুই নারীসহ ৪ রোহিঙ্গা আটক
কাছাড়ের কাটিগোড়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে দুই নারীসহ ৪ রোহিঙ্গা আটক। উদ্ধার হয়েছে সন্দেহজনক ও ভুয়া নথি, জাল শরণার্থী কার্ড। তদন্তে পুলিশ।
কাছাড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে দুই নারীসহ ৪ রোহিঙ্গা আটক
অসম, সিটি নিউজ বাংলা, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতের অসমের কাছাড় জেলায় অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে দুই নারীসহ চার রোহিঙ্গাকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। কাটিগোড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার কাটিগোড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানের সময় সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে দু’জন মহিলা রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, আটক ব্যক্তিরা রোহিঙ্গা এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে বেশ কিছু সন্দেহজনক ও ভুয়া নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে জাল শরণার্থী কার্ডও রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওই নথিগুলি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং এর পিছনে কোনও চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বেআইনি উপায়ে সীমান্ত পেরিয়ে অসমে প্রবেশ করে কাছাড় জেলার কাটিগোড়া এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তবে তাঁদের ভারতে প্রবেশের সঠিক পথ, কারা তাঁদের সাহায্য করেছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা কোথায় ছিলেন—এসব বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।
আটক চারজনকে বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া নথিগুলিও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে, যাতে সেগুলি কীভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনও দালাল বা সংগঠিত চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হয়।
কাছাড় জেলা ভৌগোলিকভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বরাবরই সতর্ক। এই ঘটনার পর ফের একবার সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জাল নথি ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে না। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার হওয়া নথির ফরেনসিক ও অন্যান্য যাচাইয়ের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
