পেরুর আন্দিজে ৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, আহত ২; ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি-স্কুল-স্বাস্থ্যকেন্দ্র
পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের আন্দিজে ৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। আয়াকুচো-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন, অন্তত ২ জন আহত ও বহু বাড়ি-পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত।
পেরুর আন্দিজে শক্তিশালী ভূমিকম্প
লিমা: পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের আন্দিজ পর্বতমালা এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বিস্তীর্ণ অঞ্চল। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা নাগাদ আয়াকুচো অঞ্চলে আঘাত হানে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প। প্রবল কম্পনের জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রাথমিকভাবে অন্তত দু’জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু বাড়িঘর, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা USGS-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল আয়াকুচো অঞ্চলের পারিনাকোচাস প্রদেশের উপাহুয়াকো শহর থেকে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির উৎসস্থল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬৬.৭ কিলোমিটার গভীরে ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পটি তুলনামূলকভাবে গভীরে সংঘটিত হওয়ায় কম্পন শক্তিশালী হলেও বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বাড়িঘর ও পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের কম্পন শুধু আয়াকুচোতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পেরুর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। ইকা, আরেকিপা ও কুসকোসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলের মানুষ ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি টের পান। এমনকি রাজধানী লিমাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ২২টি বাড়ি, ৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় দেওয়ালে ফাটল এবং নির্মাণকাঠামোর ক্ষতির খবরও সামনে এসেছে। দুর্গম অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য পরিকাঠামোর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে নজরদারি শুরু করেছে। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
তবে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিয়েছে পেরুর নৌবাহিনী। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে কোনও সুনামির আশঙ্কা নেই। ফলে উপকূলীয় এলাকাগুলিতে সুনামি নিয়ে বড় ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়নি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের পরবর্তী আফটারশকের সম্ভাবনা থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রবেশ না করার জন্যও সতর্ক করা হচ্ছে।
বর্তমানে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। ভূমিকম্পের জেরে আরও কোথাও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
