মিড-ডে মিল খেয়ে অসুস্থ ২৭ পড়ুয়া, হাসপাতালে ভর্তি ২১ | কোটা
রাজস্থানের কোটা জেলায় মিড-ডে মিল খাওয়ার পর অসুস্থ ২৭ পড়ুয়া। ২১ জন হাসপাতালে ভর্তি, ১৭ জন নিউ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। তদন্তের নির্দেশ।
মিড-ডে মিল খাওয়ার পর অসুস্থ ২৭ পড়ুয়া, হাসপাতালে ভর্তি ২১! কোটা জুড়ে চাঞ্চল্য
সিটি নিউজ বাংলা, রাজস্থান, ন্যাশনাল ডেস্ক ৬ : সরকারি স্কুলে মিড-ডে মিল খাওয়ার পর একসঙ্গে ২৭ জন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল রাজস্থানের কোটা জেলায়।

সোমবার পুনিয়া দেবলি গ্রামের একটি সরকারি আপার প্রাইমারি স্কুলে দুপুরের খাবার খাওয়ার পরই একের পর এক ছাত্রছাত্রীর শরীরে অসুস্থতার উপসর্গ দেখা দেয়। মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি, বমি ভাব এবং পেট ব্যথার মতো উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে অন্তত ২৭ জন পড়ুয়া।
ঘটনার পর স্কুল চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত অসুস্থ পড়ুয়াদের স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে মোট ২১ জন পড়ুয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, চিকিৎসাধীন সকল পড়ুয়ার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। আপাতত বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা নেই বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
দুপুরের খাবারের পরই একের পর এক পড়ুয়া অসুস্থ
জানা গিয়েছে, সোমবার কোটা জেলার পুনিয়া দেবলি গ্রামের সরকারি আপার প্রাইমারি স্কুলে নিয়মমাফিক পড়ুয়াদের দুপুরের খাবার বা মিড-ডে মিল পরিবেশন করা হয়। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েকজন পড়ুয়া অসুস্থ বোধ করতে শুরু করে।
প্রথমে মাথা ব্যথা ও মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এরপর কয়েকজন পড়ুয়ার বমি, বমি ভাব এবং পেট ব্যথা শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই অসুস্থ পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই অভিভাবকদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়। দ্রুত অসুস্থ পড়ুয়াদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন।
২১ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়
অসুস্থ পড়ুয়াদের মধ্যে মোট ২১ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৭ জনকে নিউ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদেরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি পড়ুয়াদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তাঁদের শারীরিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
হাসপাতালে পড়ুয়াদের দেখতে শিক্ষামন্ত্রী
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়। রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ার হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি চিকিৎসকদের কাছ থেকে শিশুদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন।
হাসপাতাল পরিদর্শনের পর শিক্ষামন্ত্রী জানান, অসুস্থ পড়ুয়ারা আপাতত বিপদমুক্ত এবং তাঁদের চিকিৎসা চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ
মিড-ডে মিল খাওয়ার পর একসঙ্গে এতজন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না, খাবার কীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং তা পরিবেশনের আগে কী ধরনের সংরক্ষণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খাদ্যে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত অসুস্থতার সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
শুধু খাবারেই কি সমস্যা? খতিয়ে দেখা হচ্ছে অন্য সম্ভাবনাও
ঘটনার তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। একই ধরনের খাবার অন্য স্কুলেও সরবরাহ করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু সেখানে একই খাবার খাওয়ার পর কোনও পড়ুয়া অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
ফলে শুধুমাত্র মিড-ডে মিল থেকেই অসুস্থতা হয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্তকারীরা নিশ্চিত নন। প্রচণ্ড গরম ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে পড়ুয়াদের শারীরিক অসুস্থতা তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুলের স্থানীয় পানীয় জলের মান এবং দূষণের সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
আতঙ্কের মধ্যে অভিভাবকরা, নজর প্রশাসনের
একসঙ্গে এতজন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পড়ুয়াদের অবস্থা
স্থিতিশীল থাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার প্রকৃত কারণ দ্রুত চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। খাবার, পানীয় জল, স্কুলের পরিবেশ এবং আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি—সবকটি বিষয় খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
মিড-ডে মিল খাওয়ার পর ২৭ পড়ুয়ার অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন—খাবারে কোনও সমস্যা ছিল, নাকি গরম-আর্দ্রতা কিংবা পানীয় জলের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে? উচ্চপর্যায়ের তদন্তের রিপোর্টেই সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে।
