তরুণ তেজপালকে ২ সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
গোয়া ধর্ষণ মামলায় তরুণ তেজপালকে আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। সারেন্ডার সার্টিফিকেট জমার পরই আপিলের শুনানি।
তরুণ তেজপালকে দুই সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
নয়াদিল্লি, সিটি নিউজ বাংলা, ন্যাশনাল ডেস্ক ১২ : ২০১৩ সালের গোয়া ধর্ষণ মামলায় তহেলকার প্রাক্তন সম্পাদক তরুণ তেজপালকে বড় ধাক্কা দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত তাঁকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, আত্মসমর্পণ করে সংশ্লিষ্ট শংসাপত্র বা ‘সারেন্ডার সার্টিফিকেট’ জমা দেওয়ার পরেই তাঁর দায়ের করা আপিল আবেদন শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হবে।
মঙ্গলবার বিচারপতি অলোক আরাধের একক বেঞ্চ তেজপালের সেই আবেদন খারিজ করে দেয়, যেখানে তিনি আত্মসমর্পণের নির্দেশ থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন এবং তার আগেই তাঁর আপিলের শুনানি করার আবেদন জানিয়েছিলেন।

২০১৩ সালের গোয়া মামলায় নতুন মোড়
২০১৩ সালে গোয়ায় একটি পাঁচতারা হোটেলে এক মহিলা সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর মামলাটি ফের একবার গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয় চলতি মাসে।
গত ৬ আগস্ট বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের এই রায়ের পরই আত্মসমর্পণ এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
আত্মসমর্পণের নির্দেশে ছাড় চেয়েছিলেন তেজপাল
হাইকোর্টের রায়ের পর তেজপালের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়। তাঁর মূল দাবি ছিল, আত্মসমর্পণের নির্দেশ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হোক এবং আত্মসমর্পণ করার আগেই তাঁর আপিলের শুনানি করা হোক।
তবে শীর্ষ আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যেতে হলে প্রথমে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। অর্থাৎ আত্মসমর্পণের শংসাপত্র জমা না পড়া পর্যন্ত তাঁর আপিল শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হবে না।
২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে সারেন্ডার সার্টিফিকেট
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তরুণ তেজপালকে আত্মসমর্পণ করতে হবে এবং সেই আত্মসমর্পণের শংসাপত্র আদালতে জমা দিতে হবে। এরপরই তাঁর আপিল আবেদন শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার পথ খুলবে।
আদালতের এই নির্দেশের ফলে আপাতত হাইকোর্টের দেওয়া ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়াই এগিয়ে চলবে। আত্মসমর্পণের পর তেজপালের পক্ষ থেকে দায়ের করা আপিলের বিষয়টি শীর্ষ আদালতে পরবর্তী পর্যায়ে বিবেচিত হবে।
নজরে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানি
তরুণ তেজপালের মামলাটি দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম আলোচিত যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত আইনি মামলা হিসেবে বিভিন্ন মহলে গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পর এবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মামলায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হল।
এখন মূল নজর ২২ সেপ্টেম্বরের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের শংসাপত্র জমা পড়ার পর তেজপালের আপিলের শুনানি কীভাবে এগোয়, সেদিকেই তাকিয়ে আইনজীবী মহল ও সংশ্লিষ্টরা।
