Pakistan Hospital Fire: ইসলামাবাদের হাসপাতালে আগুনে অন্তত ১৪ সদ্যোজাতের মৃত্যু
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের PIMS সরকারি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। নবজাতক বিভাগে আগুনে অন্তত ১৪ সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যু। ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
Pakistan Hospital Fire: ইসলামাবাদের সরকারি হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল অন্তত ১৪ সদ্যোজাতের
ইসলামাবাদ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের অন্যতম প্রধান সরকারি হাসপাতাল

Pakistan Institute of Medical Sciences (PIMS)-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪ জন সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার, ২৬ আগস্ট সকালে হাসপাতালের মা ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের নবজাতক ইউনিটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রে মৃতের সংখ্যা ১৫ বলা হলেও পাকিস্তান সরকারের বক্তব্য এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে অন্তত ১৪ শিশুর মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের Mother and Child Health Ward-এর তৃতীয় তলায় নবজাতকদের নার্সারি বিভাগে আগুনের সূত্রপাত হয়। পাকিস্তানের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি এয়ার কন্ডিশনারে ত্রুটি বা বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ওই ওয়ার্ডে থাকা অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
আগুনে আটকে পড়েছিল নবজাতকরা
ঘটনার সময় নবজাতক ইউনিটে একাধিক শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। উদ্ধারকাজ চালিয়ে মাত্র একজন নবজাতককে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা সম্ভব হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বাকিদের আগুন ও ধোঁয়ার কবল থেকে বাঁচানো যায়নি।
আগুন লাগার খবর পেয়ে দমকল ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। তীব্র ধোঁয়া ও আগুনের কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ততক্ষণে ঘটে যায় ভয়াবহ প্রাণহানি।
হাসপাতালের অগ্নি-নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর হাসপাতালের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাকিস্তানের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ঘটনার কারণ ও উদ্ধার ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে হাসপাতালের জরুরি অগ্নি-নিরাপত্তা পরিকাঠামো নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
তদন্তের নির্দেশ শেহবাজ শরিফের
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ঘটনায় কোনও গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ঘটনার পর পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নবজাতকদের মৃত্যুর এই ঘটনায় পাকিস্তানজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। একসঙ্গে এতগুলি সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যু দেশটির সরকারি হাসপাতালগুলির অগ্নি-নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রসঙ্গত, মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ১৪ ও ১৫—দুই ধরনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার সর্বশেষ নিশ্চিত তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৪ জন নবজাতকের মৃত্যুর কথা জানা গিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সংখ্যাটি নিয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসতে পারে।
