Nepal Flash Flood: নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ১৬৩ দেহ উদ্ধার, নিখোঁজ বহু মানুষ
নেপালে ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাডে এখনও পর্যন্ত ১৬০-এর বেশি দেহ উদ্ধার। বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মাঝে চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান। ভারতেও সীমান্তবর্তী এলাকায় সতর্কতা।
নেপালে ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাড: ১৬৩টি দেহ উদ্ধার, এখনও নিখোঁজ বহু মানুষ; উদ্বেগে ভারতও
কাঠমান্ডু/নয়াদিল্লি, ২৭ আগস্ট ২০২৬: ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাডে কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৬০-এর বেশি দেহ উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধারকাজ চলার সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে আচমকা এই ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাড আছড়ে পড়ে। প্রবল জলস্রোত ও কাদার তোড়ে একাধিক বসতি, রাস্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু বাড়িঘর ভেসে গিয়েছে বা কাদার নিচে চাপা পড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে।
এখনও নিখোঁজ বহু মানুষ
নেপাল প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিখোঁজদের সন্ধান। বিভিন্ন পর্যটন ও ভ্রমণ সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিপর্যয়কবলিত এলাকায় কয়েকশো যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন, এবং ভারতীয় নাগরিকদেরও নিখোঁজ থাকার খবর সামনে এসেছে। তবে নিখোঁজদের সংখ্যা ও পরিচয় যাচাইয়ের কাজ এখনও চলছে।
বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে তদন্ত
এই ভয়াবহ বন্যার নেপথ্যে পাহাড়ি এলাকায় বরফ ও পাথরের ধসের জেরে আকস্মিক জলস্রোত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, পরে সেই তত্ত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং ভূমিধসকে এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধারকাজে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, সেনা ও জরুরি পরিষেবার কর্মীদের নামানো হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং ভেঙে যাওয়া যোগাযোগ ব্যবস্থা উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ আবার উজানের নদীপথে জমে থাকা বাধার কারণে দ্বিতীয় দফার বন্যার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।
ভারতেও সতর্কতা
নেপালের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রভাব সীমান্তবর্তী ভারতীয় অঞ্চলগুলিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারত সরকার সীমান্তবর্তী বিহার ও উত্তরপ্রদেশে সতর্কতা জারি করেছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এনডিআরএফ দল মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, নেপালে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধার ও সহায়তার জন্য ভারতীয় দূতাবাস সংশ্লিষ্ট নেপালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছে।
পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্যও নজরদারি
নেপালের বিপর্যয়ে পশ্চিমবঙ্গের কোনও বাসিন্দা বা তাঁদের পরিবারের সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সাহায্যের জন্য রাজ্যের প্রশাসনিক ও পুলিশি স্তরে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হওয়ায় নিখোঁজ ও মৃতের সংখ্যা নিয়ে প্রশাসনের পরবর্তী সরকারি আপডেটের দিকেই নজর রাখা হচ্ছে।
ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর নেপালজুড়ে এখন শুধুই স্বজনহারাদের কান্না, ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের খোঁজ এবং সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলা উদ্ধার অভিযান। উদ্ধারকাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
