পুজোর মুখে খুলছে জলদাপাড়া, গরুমারা ও বক্সা, জঙ্গল সাফারিতে পর্যটকদের ভিড়ের আশা
পুজোর আগেই জলদাপাড়া, গরুমারা ও বক্সায় ফের জঙ্গল সাফারি চালুর ঘোষণা। উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাড়ছে আশার আলো।
🌿 পুজোর মুখে খুলছে জলদাপাড়া, গরুমারা ও বক্সার জঙ্গল সাফারি, পর্যটকদের ভিড়ের আশায় উত্তরবঙ্গ
উত্তরবঙ্গ, ট্যুরিজম ডেস্ক : পুজোর মুখে পর্যটনপ্রেমীদের জন্য এল বড় সুখবর। দীর্ঘ অপেক্ষার পর জলদাপাড়া, গরুমারা ও বক্সার জঙ্গলে ফের জঙ্গল সাফারি চালুর ঘোষণায় উত্তরবঙ্গজুড়ে পর্যটন মহলে খুশির হাওয়া। উৎসবের মরসুমে উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় এই বনাঞ্চলগুলিতে পর্যটকদের প্রবেশ ও সাফারি পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনায় ইতিমধ্যেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে পর্যটন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ভ্রমণপিপাসু মানুষের মধ্যে।

পুজোর ছুটি মানেই বহু মানুষের কাছে পাহাড়, জঙ্গল ও প্রকৃতির টানে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পাড়ি দেওয়া। সেই তালিকায় জলদাপাড়া, গরুমারা এবং বক্সার বিশেষ আকর্ষণ। বন্যপ্রাণী, ঘন জঙ্গল, নদী, পাহাড় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতিবছরই পুজোর মরসুমে এই এলাকাগুলিতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। ফলে পুজোর আগে জঙ্গল সাফারি চালুর ঘোষণাকে ঘিরে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান মূলত একশৃঙ্গ গণ্ডারের জন্য বিখ্যাত। পাশাপাশি হাতি, গৌর, হরিণ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি-সহ নানা বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে এই বনাঞ্চলে। অন্যদিকে গরুমারা জাতীয় উদ্যানও উত্তরবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় জঙ্গলভ্রমণের ঠিকানা। বক্সা টাইগার রিজার্ভের রয়েছে পাহাড়ি জঙ্গল, নদী ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য পরিবেশ। ফলে তিনটি বনাঞ্চলই পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ বহন করে।
উৎসবের মরসুমে এই বনাঞ্চলগুলি খুলে যাওয়া শুধু পর্যটকদের জন্য আনন্দের খবর নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে উত্তরবঙ্গের পর্যটন অর্থনীতির বড় একটি অংশ। পর্যটক বাড়লে হোটেল, রিসর্ট, হোমস্টে, গাড়ি ভাড়া, সাফারি গাড়ি, স্থানীয় গাইড, রেস্তোরাঁ এবং ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের আয় বাড়ে। ফলে পুজোর মরসুমে জঙ্গল সাফারি চালুর সিদ্ধান্তকে ঘিরে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনও আশাবাদী।
ইতিমধ্যেই বহু পর্যটক পুজোর ছুটিতে উত্তরবঙ্গ ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি কয়েকটা দিন কাটাতে আগ্রহী পর্যটকদের কাছে জঙ্গল সাফারি অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। জঙ্গলের পথে সাফারি গাড়িতে ঘুরে বন্যপ্রাণী দেখা, সবুজে ঘেরা পরিবেশ উপভোগ এবং প্রকৃতির নির্জনতার স্বাদ নিতে প্রতি বছরই বহু মানুষ উত্তরবঙ্গে আসেন।
পুজোর মুখে তিন গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলে সাফারি চালুর ঘোষণায় তাই পর্যটন মহলে উৎসবের আবহ আরও গাঢ় হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পর্যটননির্ভর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনও আশা করছেন, এবারের পুজোর মরসুমে উত্তরবঙ্গের জঙ্গলগুলিতে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম হবে। পর্যটকদের আগমন বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় অর্থনীতিতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে জঙ্গল সাফারি চালুর পাশাপাশি বনাঞ্চলের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে মনে করছেন পরিবেশপ্রেমীরা। পর্যটকদেরও বন দফতরের নিয়ম মেনে চলা, জঙ্গলের পরিবেশ নষ্ট না করা এবং বন্যপ্রাণীদের বিরক্ত না করার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। কারণ পর্যটনের আকর্ষণের মূল কেন্দ্রই হল জঙ্গলের স্বাভাবিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী।
সব মিলিয়ে পুজোর আগে জলদাপাড়া, গরুমারা ও বক্সায় জঙ্গল সাফারি ফের চালুর ঘোষণায় উত্তরবঙ্গের পর্যটন মহলে নতুন করে প্রাণ ফিরেছে। পর্যটকদের আনন্দের পাশাপাশি হোটেল-রিসর্ট মালিক, গাড়িচালক, পর্যটনকর্মী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখেও ফুটেছে আশার হাসি। এখন পুজোর ছুটিতে উত্তরবঙ্গের জঙ্গলপথে কতটা পর্যটকের ঢল নামে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা পর্যটন মহল।
