বারাণসী-হরিদ্বারের আদলে কোচবিহারে গঙ্গা আরতি, বৈরাগী দিঘি থেকে সাগরদিঘি
বারাণসী ও হরিদ্বারের আদলে কোচবিহারের ঐতিহাসিক দিঘির ঘাটে গঙ্গা আরতি। বৈরাগী দিঘি ও সাগরদিঘিতে আয়োজন, মূল বার্তা জল সংরক্ষণ ও ঐতিহ্য রক্ষা।
বারাণসী-হরিদ্বারের আদলে কোচবিহারে গঙ্গা আরতি

কোচবিহার, লোকাল ডেস্ক : রাজ আমলের ঐতিহ্যবাহী দিঘিগুলিকে নতুন করে মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং জল সংরক্ষণ ও জলাশয় রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে অভিনব উদ্যোগ কোচবিহারে। বারাণসী ও হরিদ্বারের আদলে কোচবিহারের ঐতিহাসিক জলাশয়ের ঘাটে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ গঙ্গা আরতির। আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে পরিবেশ ও জল সংরক্ষণের বার্তাকে যুক্ত করে এই কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ।
রাজ্য বিধানসভার স্পিকার তথা কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসুর উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কোচবিহারের প্রাচীন রাজকীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে সামনে রেখে শহরের ঐতিহাসিক দিঘিগুলিকে কেন্দ্র করে এই গঙ্গা আরতির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বৈরাগী দিঘির ঘাটে প্রথম দিনের আরতি
৩০ আগস্ট ঐতিহ্যবাহী মদনমোহন মন্দিরের সামনে অবস্থিত বৈরাগী দিঘির ঘাটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রথম দিনের বিশেষ সন্ধ্যার আরতি। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঘাটজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। এর আগে ২৯ আগস্ট বৈরাগী দিঘির ঘাটে বিশেষ পুজো ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
সন্ধ্যার আরতিতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে জলাশয় রক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং কোচবিহারের ঐতিহাসিক দিঘিগুলির গুরুত্ব তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৩১ আগস্ট সাগরদিঘিতে মহাসমারোহে দ্বিতীয় দিনের আরতি
এই আয়োজনের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ৩১ আগস্ট। কোচবিহার শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক সাগরদিঘির ঘাটে মহাসমারোহে বিশেষ গঙ্গা আরতির আয়োজন করা হয়েছে। শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলাশয়কে কেন্দ্র করে এমন আয়োজনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানস্থলের নিরাপত্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে।
হরিদ্বার ও দেহরাদূন থেকে আসছেন পাঁচ পণ্ডিত
এই বিশেষ গঙ্গা আরতিকে আরও ঐতিহ্যবাহী ও নিয়ম মেনে সম্পন্ন করার জন্য হরিদ্বার ও দেহরাদূন থেকে পাঁচজন অভিজ্ঞ পণ্ডিতকে কোচবিহারে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁদের নেতৃত্বেই বিশেষ পুজো, প্রার্থনা এবং সন্ধ্যার আরতির ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করা হবে।
বারাণসী ও হরিদ্বারের গঙ্গা আরতির আদলে কোচবিহারের ঐতিহাসিক দিঘির ঘাটে এই আয়োজন শহরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
চার ঘাটের নামকরণের পরিকল্পনা
সাগরদিঘিকে কেন্দ্র করে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাগরদিঘির চারটি ঘাটকে আলাদা নাম দেওয়ার বিষয়ে পুরসভার তরফে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ঐতিহাসিক জলাশয়ের বিভিন্ন ঘাটকে পৃথক পরিচিতি দেওয়ার পাশাপাশি সাগরদিঘির ঐতিহ্যকে আরও সুসংহতভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
জল সংরক্ষণই মূল বার্তা
শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জল সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং ঐতিহাসিক জলাশয়গুলিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
কোচবিহার রাজ আমলের অসংখ্য দিঘি ও জলাশয়ের জন্য পরিচিত। সময়ের সঙ্গে অনেক ঐতিহাসিক জলাশয়ের গুরুত্ব ও ব্যবহার কমে গেলেও সেগুলিকে নতুন করে সংরক্ষণ এবং সৌন্দর্যায়নের মাধ্যমে মানুষের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে এই গঙ্গা আরতির আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, ঐতিহাসিক দিঘি শুধুমাত্র জলাধার নয়, এগুলি কোচবিহারের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রাজকীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই জলাশয়ে আবর্জনা না ফেলা, জল দূষণ রোধ করা এবং দিঘির পরিবেশ পরিষ্কার রাখা প্রত্যেকের দায়িত্ব।
ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধনে নতুন আকর্ষণ কোচবিহারে
কোচবিহারের রাজকীয় ইতিহাসের সঙ্গে বারাণসী ও হরিদ্বারের আধ্যাত্মিক আবহের এই মেলবন্ধন শহরবাসীর কাছে নিঃসন্দেহে নতুন অভিজ্ঞতা হতে চলেছে। বিশেষ করে মদনমোহন মন্দিরের সামনে বৈরাগী দিঘি এবং শহরের প্রাণকেন্দ্রের সাগরদিঘিকে ঘিরে এই আয়োজন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদেরও আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গঙ্গা আরতির আধ্যাত্মিক আবহের মধ্য দিয়ে যদি ঐতিহাসিক দিঘি সংরক্ষণ ও জল বাঁচানোর বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও জোরালোভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে এই উদ্যোগ কোচবিহারের ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
