খাড়্গের সভাস্থলে ‘শুদ্ধিকরণ’ মন্তব্য, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর
হালদওয়ানিতে খাড়্গের সভাস্থল ‘শুদ্ধিকরণ’ নিয়ে মন্তব্যের জেরে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর। BNS ও SC/ST আইনে মামলা, বাড়ছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
খাড়্গের সভাস্থলে ‘শুদ্ধিকরণ’ নিয়ে মন্তব্য, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর
সিটি নিউজ বাংলা, ন্যাশনাল ডেস্ক ৫ : উত্তরাখণ্ডের হালদওয়ানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের সভাস্থলে ‘শুদ্ধিকরণ’ আচার নিয়ে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। এক দলিত ও বাল্মীকি সম্প্রদায়ের সদস্যের অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং এসসি/এসটি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, রাহুল গান্ধী একটি ধর্মীয় আচার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিকে ইচ্ছাকৃতভাবে জাতিবিদ্বেষী এবং দলিত-বিরোধী হিসেবে তুলে ধরে তফশিলি জাতিভুক্ত মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেসের বক্তব্য, খাড়্গের সভা শেষ হওয়ার পর সভাস্থল ‘শুদ্ধিকরণ’-এর নামে যে কর্মসূচি করা হয়েছিল, তা আসলে দলিত ও সংবিধানবিরোধী মানসিকতারই প্রকাশ।
কোথা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত?
অগাস্ট মাসের শুরুতে উত্তরাখণ্ডের হালদওয়ানির রামলীলা ময়দানে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কংগ্রেসের বিভিন্ন নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, জনসভা শেষ হওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও সংগঠনের উদ্যোগে ওই মাঠে ‘শুদ্ধিকরণ যজ্ঞ’ এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। এই ঘটনাই পরবর্তীতে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে।
কংগ্রেসের তরফে সেই সময় ঘটনাটির তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। দলটির অভিযোগ ছিল, খাড়্গে দলিত সম্প্রদায়ের একজন প্রবীণ নেতা হওয়ায় তাঁর সভাস্থলকে আলাদা করে ‘শুদ্ধিকরণ’-এর নামে ধর্মীয় আচার পালন করা আসলে জাতপাত ও অস্পৃশ্যতার মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে দলিত ও সংবিধানবিরোধী মানসিকতার উদাহরণ হিসেবেও তুলে ধরা হয়।
২৯ অগাস্ট রাহুলের মন্তব্য
এই বিতর্কের মধ্যেই গত ২৯ অগাস্ট দিল্লিতে একটি প্রেস কনফারেন্সে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন রাহুল গান্ধী। তিনি হালদওয়ানির ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ওই ‘শুদ্ধিকরণ’ আচারকে অস্পৃশ্যতার চর্চা এবং অপরাধ বলে মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার দাবিও জানান তিনি।
রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের পরই বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। তাঁর বক্তব্যের বিরুদ্ধে হালদওয়ানি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন শ্রী রাম সেনার সদস্য এবং তফশিলি জাতিভুক্ত বলে পরিচয় দেওয়া অমিত কুমার।
অভিযোগকারীর বক্তব্য কী?
অভিযোগকারী অমিত কুমারের দাবি, সভাস্থলে যে কর্মসূচি করা হয়েছিল, সেটিকে রাহুল গান্ধী ইচ্ছাকৃতভাবে জাতিবিদ্বেষী ও দলিত-বিরোধী হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিযোগ, এটি ছিল একটি সাধারণ ধর্মীয় আচার এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান, যার সঙ্গে জাতপাত বা অস্পৃশ্যতার কোনও সম্পর্ক নেই।
অভিযোগকারীর দাবি, রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের ফলে তফশিলি জাতি সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
BNS ও SC/ST আইনে মামলা
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন-এর অধীনে মামলা রুজু করেছে। মামলাটি এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে কংগ্রেস এই ঘটনার মাধ্যমে জাতপাত ও অস্পৃশ্যতার মানসিকতার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে, অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষ রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকেই দলিত সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে দেখছে।
রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে ‘শুদ্ধিকরণ’
খাড়্গের সভাস্থলকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন সরাসরি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফলে উত্তরাখণ্ডের হালদওয়ানির স্থানীয় একটি ঘটনাই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার পর কংগ্রেস ও বিরোধী শিবিরের বক্তব্য এবং অভিযোগকারী পক্ষের পাল্টা দাবির মধ্যে দিয়ে বিষয়টি আরও রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে। এখন পুলিশের তদন্তে কী উঠে আসে এবং রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
