ডেঙ্গু প্রতিরোধে সতর্কতা, এডিস মশার দাপট রুখতে কী করবেন?
বর্ষায় জমা জলে বাড়ছে এডিস মশার বংশবৃদ্ধির আশঙ্কা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জমা জল পরিষ্কার, মশার কামড় এড়ানো ও উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ।
ডেঙ্গুর প্রকোপ আটকাতে এডিস মশার দাপট রুখতে সতর্ক থাকার পরামর্শ
সিটি নিউজ বাংলা,
হেল্থ ডেস্ক ৪ : বর্ষার মরশুমে আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং থেমে থেমে বৃষ্টির জেরে বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর আশঙ্কা ফের বাড়তে শুরু করেছে। বৃষ্টির পর বাড়ির আশপাশে, ছাদে, বারান্দায় কিংবা বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা জল এডিস মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখন থেকেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল এডিস মশার বংশবৃদ্ধি বন্ধ করা। মশার লার্ভা যাতে জন্মাতে না পারে, সেজন্য বাড়ি ও বাড়ির আশপাশে কোথাও জল জমতে দেওয়া যাবে না। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুরক্ষার দিকেও নজর দিতে হবে।
জমা জলেই বিপদ, সতর্ক থাকুন
বর্ষার সময়ে ফুলের টব, ভাঙা পাত্র, পুরনো টায়ার, প্লাস্টিকের কৌটো, ডাবের খোলা, ছাদ বা বারান্দার কোনও অংশে অল্প জল জমে থাকলেও সেখানে এডিস মশা ডিম পাড়তে পারে। তাই নিয়মিত বাড়ির চারপাশ পরিদর্শন করে জমে থাকা জল দ্রুত পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জলের পাত্র থাকলে তা ঢেকে রাখা এবং যেসব পাত্রে জল জমতে পারে সেগুলি নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। বাড়ির পাশাপাশি পাড়া ও আশপাশের এলাকাতেও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মশার কামড় থেকে বাঁচতে কী করবেন?
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু জমা জল পরিষ্কার করলেই হবে না, মশার কামড় এড়াতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে শরীর যতটা সম্ভব ঢেকে রাখার জন্য সম্পূর্ণ হাতা জামা ও প্যান্ট পরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দিনের পাশাপাশি রাতেও মশারি ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরে মশার উপদ্রব বেশি হলে মশা তাড়ানোর কয়েল, স্প্রে বা অন্যান্য নিরাপদ মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এসব ব্যবহারের সময় সংশ্লিষ্ট পণ্যের নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলা জরুরি।
ডেঙ্গুর সম্ভাব্য লক্ষণ কী?
ডেঙ্গু হলে সাধারণত হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে চোখের পিছনে ব্যথা, শরীর ও পেশিতে ব্যথা এবং ত্বকে লালচে র্যাশও দেখা যেতে পারে।
তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে একই ধরনের উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তাই জ্বরের সঙ্গে অস্বাভাবিক কোনও উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
জ্বর হলে নিজের থেকে ওষুধ নয়
জ্বর বা ডেঙ্গুর মতো উপসর্গ দেখা দিলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি শরীরে জলের ঘাটতি যাতে না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত জল ও উপযুক্ত তরল পান করা যেতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। ডেঙ্গুর সন্দেহ থাকলে নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করাই নিরাপদ।
সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার
বর্ষার এই সময়ে থেমে থেমে বৃষ্টির পর জমে থাকা জল দ্রুত পরিষ্কার করা, বাড়িঘর ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা—ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। কারণ, একটি ছোট পাত্রে জমে থাকা জলও এডিস মশার প্রজননস্থল হয়ে উঠতে পারে। তাই নিজের বাড়ির পাশাপাশি আশপাশের এলাকাতেও জমা জল পরিষ্কার রাখার বিষয়ে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
