বিমানের টিস্যুতে ‘BOMB’ লেখা! আতঙ্কে জরুরি অবতরণ আহমেদাবাদে
দাম্মাম-দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস বিমানের শৌচাগারের টিস্যুতে ‘BOMB’ লেখা বার্তা! আতঙ্কে আহমেদাবাদে জরুরি অবতরণ, ৩২ যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে তল্লাশি।
বিমানের শৌচাগারে টিস্যুতে ‘BOMB’ লেখা! আতঙ্কে জরুরি অবতরণ আহমেদাবাদে

আহমেদাবাদ, ন্যাশনাল ডেস্ক ৯ : মাঝ আকাশে বিমানের শৌচাগারের টিস্যু পেপারে ‘BOMB’ লেখা দেখতে পাওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। দাম্মাম থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বিমানে এই হুমকির বার্তা পাওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানটিকে জরুরি অবতরণ করানো হয় আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই পটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ঘটনাটি ঘটেছে ৩১ আগস্ট ২০২৬।
জানা গিয়েছে, দাম্মাম থেকে নয়া দিল্লির উদ্দেশে উড়ে যাওয়ার পর মাঝ আকাশে বিমানের শৌচাগারে একটি টিস্যু পেপারে ইংরেজিতে ‘BOMB’ লেখা দেখতে পান এক কেবিন ক্রু। বিষয়টি নজরে আসতেই বিমানের ভিতরে সতর্কতা জারি করা হয়। কোনও ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত বিষয়টি পাইলটকে জানানো হয়।
ATC-র সঙ্গে যোগাযোগ, জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত
বিমানের ভিতরে সম্ভাব্য বোমা থাকার আশঙ্কার খবর পাওয়ার পর পাইলট সঙ্গে সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বা ATC-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিমানটিকে নির্ধারিত গন্তব্য দিল্লিতে না নিয়ে আহমেদাবাদে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রায় বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ বিমানটি আহমেদাবাদ বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। অবতরণের পর যাত্রী ও বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানটিকে সরাসরি নির্ধারিত জায়গায় না রেখে একটি আইসোলেটেড বে বা নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
৩২ যাত্রীকে নিরাপদে বিমান থেকে নামানো হয়
বিমানে তখন মোট ৩২ জন যাত্রী ছিলেন। জরুরি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তাঁদের দ্রুত এবং নিরাপদে বিমান থেকে বের করে আনা হয়। পরে যাত্রীদের টার্মিনাল-২-এ স্থানান্তর করা হয়।
যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার পর শুরু হয় বিমানে ব্যাপক নিরাপত্তা তল্লাশি। সম্ভাব্য কোনও বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু বিমানের ভিতরে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একাধিক নিরাপত্তা সংস্থা তল্লাশিতে নামে।
বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও CISF-এর তল্লাশি
বিমানটি আইসোলেটেড বে-তে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে পৌঁছয় বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল (Bomb Disposal Squad), CISF এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী। বিমানের ভিতরের বিভিন্ন অংশ, যাত্রীদের বসার জায়গা, লাগেজ রাখার স্থান এবং শৌচাগার-সহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালানো হয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর দীর্ঘ তল্লাশির পরও বিমানে কোনও বিস্ফোরক, বোমা বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। ফলে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ভুয়া বোমা-হুমকি বলেই মনে করা হচ্ছে।
কে লিখল ‘BOMB’? শুরু তদন্ত
তবে টিস্যু পেপারে কেন বা কারা ‘BOMB’ লিখে রাখল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এটি নিছক মজা করে করা হয়েছিল, নাকি পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা ছিল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পিছনে কারও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছিল কি না, বিমানের কোনও যাত্রী এই বার্তা লিখেছিলেন কি না এবং সেটি কখন শৌচাগারে রাখা হয়েছিল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।
বিমানে কোনও বিস্ফোরক না মিললেও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুযায়ী পুরো বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিমানের ভিতরে এমন বার্তা কীভাবে এল এবং তা নজরে আসার আগে কতক্ষণ সেখানে ছিল, সেই প্রশ্নগুলিও তদন্তকারীদের সামনে রয়েছে।
নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ‘BOMB’ লেখা কোনও বার্তাকে সামান্য বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাই মাঝ আকাশে টিস্যু পেপারে মাত্র একটি শব্দ দেখতে পাওয়ার পরও পাইলট এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
বিমানটিকে নির্ধারিত গন্তব্যে না নিয়ে নিরাপদে আহমেদাবাদে নামানো, যাত্রীদের বিমান থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল দিয়ে তল্লাশি চালানোর মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত বিমানে কোনও বিস্ফোরক না পাওয়ায় স্বস্তি মিলেছে। তবে মাঝ আকাশে বিমানের শৌচাগারে ‘BOMB’ লেখা ওই বার্তা কে রেখেছিল এবং কেন এমন আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছিল, এখন সেটাই তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
