সেপ্টেম্বরে দেশজুড়ে বৃষ্টির ঘাটতির আশঙ্কা, বাড়তে পারে গরম
lসেপ্টেম্বরে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির পূর্বাভাস। LPA-এর ৯১ শতাংশের নিচে নামতে পারে বৃষ্টি। এল নিনোর প্রভাবে বাড়তে পারে তাপমাত্রা।
সেপ্টেম্বরে দেশজুড়ে বৃষ্টির ঘাটতির আশঙ্কা! এল নিনোর প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি, বাড়তে পারে গরম

নয়াদিল্লি, এনভায়রন্মেন্ট ডেস্ক ১০ : বর্ষার মরশুম শেষের পথে। তার মধ্যেই সেপ্টেম্বর মাসের আবহাওয়া নিয়ে সামনে এল উদ্বেগের পূর্বাভাস। চলতি মাসে সারা দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আবহাওয়া সংক্রান্ত পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। ফলে সেপ্টেম্বরজুড়ে অনেক এলাকায় গরম ও অপেক্ষাকৃত শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির পূর্বাভাস
সেপ্টেম্বর মাসে দেশের সামগ্রিক বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড় (LPA)-এর ৯১ শতাংশের নিচে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের দীর্ঘমেয়াদি গড় প্রায় ১৬৭.৯ মিলিমিটার।
অর্থাৎ, বর্ষার শেষ পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে যেসব অঞ্চলে বর্ষার বৃষ্টির উপর কৃষিকাজ ও জলসম্পদের বড় নির্ভরতা রয়েছে, সেখানেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে হবে।
বৃষ্টির ঘাটতির পিছনে এল নিনোর প্রভাব
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে এল নিনো (El Niño) পরিস্থিতিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হলে তার প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আবহাওয়ায় পড়তে পারে। ভারতের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব বর্ষার গতিপ্রকৃতিকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
এল নিনোর প্রভাবে মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলেই সেপ্টেম্বর মাসে বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃষ্টির পাশাপাশি বাড়তে পারে তাপমাত্রা
শুধু বৃষ্টির ঘাটতিই নয়, সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন—দুই ধরনের তাপমাত্রাই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ দিনের বেলায় তাপমাত্রা বেশি থাকার পাশাপাশি রাতেও প্রত্যাশিত মাত্রায় ঠান্ডা নামার সম্ভাবনা কম। এর ফলে আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার সম্মিলিত প্রভাবে অনেক এলাকায় অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হতে পারে।
বর্ষার শেষেও স্বস্তি মিলবে না গরম থেকে
সাধারণত বর্ষাকালে নিয়মিত বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে বৃষ্টির ঘাটতি তৈরি হলে মেঘ-বৃষ্টির অভাবে দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে রাতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকলে সামগ্রিকভাবে গরম ও শুষ্ক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
ফলে সেপ্টেম্বরের প্রথম থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আবহাওয়ার ওঠানামার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যেখানে বৃষ্টির উপর কৃষি ও জলসংরক্ষণ ব্যবস্থা অনেকটাই নির্ভরশীল, সেখানে পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কৃষি ও জলসম্পদের উপর পড়তে পারে প্রভাব
সেপ্টেম্বরের বৃষ্টিপাত কম হলে তার প্রভাব শুধু আবহাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশের বহু অঞ্চলে বর্ষার শেষ দিকের বৃষ্টি কৃষিকাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টির ঘাটতি হলে মাটিতে আর্দ্রতার পরিমাণ, জলাধারগুলির জলস্তর এবং কৃষিকাজের উপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
তবে কোন রাজ্যে কতটা বৃষ্টি হবে, তা অঞ্চলভেদে আলাদা হতে পারে। তাই সারাদেশের সামগ্রিক পূর্বাভাসের পাশাপাশি স্থানীয় আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা ও পূর্বাভাসের উপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গেও নজর আবহাওয়ার দিকে
সেপ্টেম্বরে সার্বিকভাবে বৃষ্টির ঘাটতির পূর্বাভাস থাকলেও তার অর্থ এই নয় যে দেশের প্রতিটি এলাকায় বৃষ্টি কম হবে। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা, নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্তের মতো স্থানীয় আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে কোনও কোনও অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিও হতে পারে।
তাই পশ্চিমবঙ্গ, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের মতো বর্ষাপ্রবণ অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ও মৌসুমি সিস্টেমের গতিপ্রকৃতির উপরই বৃষ্টির পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করবে।
সেপ্টেম্বরে আবহাওয়ার সম্ভাব্য চিত্র
সব মিলিয়ে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে দেশের আবহাওয়ার সম্ভাব্য চিত্র—
🌧️ স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির সম্ভাবনা।
📉 বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড়ের ৯১ শতাংশের নিচে থাকতে পারে।
☀️ দেশের বেশিরভাগ অংশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হতে পারে।
🌡️ সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও অনেক এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে।
🌊 এল নিনোর প্রভাব বর্ষার উপর চাপ তৈরি করতে পারে।
🥵 বৃষ্টির ঘাটতির সঙ্গে অনেক এলাকায় গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকার আশঙ্কা।
অর্থাৎ, বর্ষার শেষ মাস হিসেবে সেপ্টেম্বর সাধারণত বৃষ্টির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ বছর দেশের সামগ্রিক আবহাওয়ার চিত্র কিছুটা আলাদা হতে পারে। বৃষ্টির ঘাটতি এবং তুলনামূলক বেশি তাপমাত্রা—এই দুইয়ের প্রভাবে মাসজুড়ে আবহাওয়ার দিকে বাড়তি নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
