ইস্টবেঙ্গলে বড় চমক, জামশেদপুর থেকে রেনিয়ার এক বছরের চুক্তিতে
দলবদলের শেষলগ্নে বড় চমক ইস্টবেঙ্গলের। জামশেদপুর এফসি থেকে অভিজ্ঞ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রেনিয়ার রেমন্ড ফার্নান্দেজকে এক বছরের চুক্তিতে সই করাল লাল-হলুদ।
দলবদলে বড় চমক ইস্টবেঙ্গলের! জামশেদপুর থেকে রেনিয়ারকে এক বছরের চুক্তিতে সই

কলকাতা, স্পোর্টস ডেস্ক ৫ : আইএসএল শুরুর আগে দলবদলের বাজারের শেষলগ্নে বড়সড় চমক দিল ইস্টবেঙ্গল। জামশেদপুর এফসির অভিজ্ঞ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রেনিয়ার রেমন্ড ফার্নান্দেজকে এক বছরের চুক্তিতে দলে নিল লাল-হলুদ শিবির। রবিবার সরকারি ভাবে রেনিয়ারের সঙ্গে চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে ইস্টবেঙ্গল। ফলে নতুন মরসুমে আইএসএলের আগে দলের মাঝমাঠ যে আরও শক্তিশালী হল, তা বলাই যায়।
আক্রমণাত্মক ফুটবলের পাশাপাশি মাঝমাঠ থেকে গোল করার দক্ষতার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় ফুটবলে পরিচিত রেনিয়ার। চলতি ডুরান্ড কাপেও জামশেদপুর এফসির জার্সিতে দুরন্ত পারফরম্যান্স করেছেন তিনি। প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত একটি হ্যাটট্রিক করে নজর কেড়েছিলেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। সেই পারফরম্যান্সের পরই ইস্টবেঙ্গল ম্যানেজমেন্ট তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে বলে জানা গিয়েছে।
গোল করার দক্ষতাই রেনিয়ারের বড় শক্তি
মাঝমাঠে খেললেও প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে গোল করার ক্ষমতা রেনিয়ারের অন্যতম বড় অস্ত্র। পরিস্থিতি বুঝে আক্রমণে উঠে যাওয়া, গোলের সুযোগ তৈরি করা এবং দূরপাল্লার শটে বিপক্ষের রক্ষণকে চাপে ফেলার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। ফলে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণভাগকে আরও কার্যকর করে তুলতে রেনিয়ারের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের লিগে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। মুম্বই সিটি এফসি, এফসি গোয়া, ওড়িশা এফসি এবং জামশেদপুর এফসি—একাধিক আইএসএল ক্লাবের হয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত আইএসএলে তাঁর ম্যাচের সংখ্যা ১২৫-এর কাছাকাছি। শুধু ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাই নয়, জয়ের স্বাদও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। আইএসএল কাপ, লিগ শিল্ড এবং সুপার কাপ জেতার অভিজ্ঞতা রয়েছে এই মিডফিল্ডারের।
জাতীয় দলের জার্সিতেও মাঠে নেমেছেন রেনিয়ার। ফলে বড় ম্যাচে চাপ সামলানো এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজের সেরাটা দেওয়ার অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে।
কলকাতার ময়দানও অচেনা নয় রেনিয়ারের
ইস্টবেঙ্গলে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে রেনিয়ারের আরও একটি সুবিধা রয়েছে—কলকাতার ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে তিনি আগে থেকেই পরিচিত। অতীতে মোহনবাগানের হয়ে আই লিগে ১৯টি ম্যাচ খেলেছেন এই ফুটবলার। ফলে কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা, ময়দানের আবেগ এবং বড় ক্লাবের হয়ে খেলার চাপ তাঁর কাছে একেবারে নতুন নয়।
এবার অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান নয়, লাল-হলুদ জার্সিতেই কলকাতার ময়দানে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন রেনিয়ার। সমর্থকদের প্রত্যাশা থাকবে, তাঁর অভিজ্ঞতা এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠকে আরও ধারালো করে তুলবে।
সানানকে ঘিরেও বাড়ছে জল্পনা
রেনিয়ারের সইয়ের পাশাপাশি জামশেদপুর এফসির আরও এক তরুণ ফুটবলার মহম্মদ সানানকে ঘিরে ইস্টবেঙ্গলে যোগদানের জল্পনাও তুঙ্গে। শনিবার ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার বর্ষসেরা উদীয়মান ফুটবলারের পুরস্কার হাতে নিয়ে আগামী মরসুমে বর্ষসেরা ফুটবলার হওয়ার লক্ষ্য প্রকাশ করেছেন সানান।
ইস্টবেঙ্গলে তাঁর যোগদানের আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে বলে খবর। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাননি তরুণ ফুটবলার। তবে কলকাতায় আসার সম্ভাবনাও তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি।
ফুটবল মহলে জোর জল্পনা, সানান নিজেও লাল-হলুদ জার্সিতে খেলার ব্যাপারে আগ্রহী। এমনকি শনিবার তাঁর এজেন্ট ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে এসেছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, সানানকে দলে নেওয়ার জন্য ইস্টবেঙ্গলের পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে দীর্ঘমেয়াদি চার বছরের চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও খবর।
ফলে শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতিতে বড় কোনও পরিবর্তন না হলে সানানের পরবর্তী গন্তব্যও ইস্টবেঙ্গল হতে পারে বলে জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বর্ষসেরার স্বীকৃতিও পেল ইস্টবেঙ্গল
এরই মধ্যে ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার বিচারে বর্ষসেরা পুরুষ ও মহিলা দলের স্বীকৃতি পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। একদিকে পুরস্কারের স্বীকৃতি, অন্যদিকে দলবদলের বাজারে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে দলে নেওয়া—সব মিলিয়ে নতুন মরসুমের আগে লাল-হলুদ শিবিরে আত্মবিশ্বাস যে বাড়ছে, তা বলাই যায়।
রেনিয়ারের আগমন এবং সানানকে নিয়ে তৈরি হওয়া সম্ভাবনা—দুইয়ের দিকেই এখন নজর থাকবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের। আইএসএলের নতুন মরসুমে শক্তিশালী দল নিয়ে কতটা সাফল্য আসে, তার উত্তর মিলবে মাঠেই।
