১ সেপ্টেম্বর থেকে বিদেশযাত্রায় বদল, বোর্ডিং পাসে ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্প আর বাধ্যতামূলক নয়
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ভারতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশগামী যাত্রীদের বোর্ডিং পাসে ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্প বাধ্যতামূলক নয়। স্মার্টফোনে ই-বোর্ডিং পাস দেখিয়েই মিলবে সুবিধা।
বিদেশযাত্রায় ১ সেপ্টেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোর্ডিং পাসে ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্প বাধ্যতামূলক নয়

নয়াদিল্লি, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ৬ : বিদেশযাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির খবর। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ভারতের সমস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশগামী যাত্রীদের বোর্ডিং পাসে ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্প নেওয়ার বাধ্যতামূলক নিয়ম তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় যাত্রীদের জন্য আরও বেশি ডিজিটাল সুবিধা চালু হল।
নতুন ব্যবস্থায় যাত্রীরা তাঁদের স্মার্টফোনে থাকা ই-বোর্ডিং পাস (e-boarding pass) দেখিয়েই প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। এতদিন বিদেশযাত্রার সময় বোর্ডিং পাসে ইমিগ্রেশন আধিকারিকের স্ট্যাম্প নেওয়ার বিষয়টি যাত্রাপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এবার সেই বাধ্যবাধকতা সরিয়ে দিয়ে পুরো ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্মার্টফোনেই দেখানো যাবে ই-বোর্ডিং পাস
নতুন নিয়মের ফলে বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে প্রয়োজন অনুযায়ী স্মার্টফোনে থাকা ই-বোর্ডিং পাস দেখানো যাবে। অর্থাৎ শুধুমাত্র ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্প নেওয়ার জন্য আলাদা করে কাগজের বোর্ডিং পাস নিয়ে ঘোরার প্রয়োজন থাকছে না।
ডিজিটাল বোর্ডিং পাস ব্যবহার করে যাত্রীদের পরিচয় ও ভ্রমণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। এর ফলে বিমানবন্দরের বিভিন্ন ধাপে কাগজপত্রের ব্যবহার কমবে এবং যাত্রী পরিষেবাকে আরও দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হবে।
কাগজের বোর্ডিং পাস রাখতে চাইলে রাখা যাবে
তবে যাত্রীরা চাইলে এখনও প্রিন্ট করা কাগজের বোর্ডিং পাস সঙ্গে রাখতে পারবেন। অর্থাৎ নতুন নিয়মে কাগজের বোর্ডিং পাস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়নি। কেউ যদি নিজের সুবিধার জন্য প্রিন্ট কপি রাখতে চান, তা রাখতে পারবেন।
তবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল—সেই কাগজের বোর্ডিং পাসে ইমিগ্রেশন অফিসারের স্ট্যাম্প নেওয়া আর বাধ্যতামূলক নয়। ফলে স্ট্যাম্প নেওয়ার জন্য আলাদা করে অপেক্ষা করা বা বোর্ডিং পাসে সিলমোহর লাগানোর প্রয়োজন থাকছে না।
কেন এই পরিবর্তন?
বিমানবন্দরে যাত্রীদের সময় বাঁচানো এবং ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলিতে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন তৈরি হলে যাত্রীদের অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয়। নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থায় সেই চাপ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর ফলে—
ইমিগ্রেশন কাউন্টারে অপেক্ষার সময় কমতে পারে।
বোর্ডিং পাসে স্ট্যাম্প নেওয়ার অতিরিক্ত ধাপ বাদ যাবে।
স্মার্টফোনের ই-বোর্ডিং পাস ব্যবহার করে প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।
কাগজের ব্যবহার কমিয়ে বিমানবন্দর পরিষেবাকে আরও ডিজিটাল করা যাবে।
বিদেশগামী যাত্রীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা আরও দ্রুত ও স্বচ্ছন্দ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিদেশযাত্রীদের জন্য কী বদলাল?
আগের ব্যবস্থায় বিদেশযাত্রার সময় বোর্ডিং পাসে ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্প নেওয়ার বিষয়টি যাত্রীদের জন্য পরিচিত একটি প্রক্রিয়া ছিল। এখন থেকে সেই বাধ্যতামূলক ধাপটি আর থাকছে না।
অর্থাৎ, ১ সেপ্টেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশগামী যাত্রীরা ডিজিটাল বোর্ডিং পাসের সুবিধা নিয়ে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি, পাসপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন বা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
ডিজিটাল বিমান পরিষেবার দিকে আরও এক ধাপ
ভারতের বিমানবন্দরগুলিতে গত কয়েক বছরে যাত্রী পরিষেবাকে প্রযুক্তিনির্ভর করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বোর্ডিং পাসে ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্পের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক যাত্রী সংখ্যা ক্রমশ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরে দ্রুত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ব্যবস্থা কার্যকরভাবে চালু হলে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় কমবে এবং বিদেশযাত্রার আগে বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতাও আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত হবে।
ফলে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে বিদেশগামী ভারতীয় যাত্রীদের জন্য বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় এল এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন—কাগজের বোর্ডিং পাসে ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্প নেওয়ার বাধ্যবাধকতা শেষ, আর স্মার্টফোনের ই-বোর্ডিং পাসেই এগিয়ে যাবে যাত্রাপথ।
