NEET আন্দোলনে বড় স্বস্তি! বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে FIR খারিজ সুপ্রিম কোর্টের
NEET-UG ২০২৬ আন্দোলনে বড় আইনি স্বস্তি। ২০-২৫ জুলাইয়ের বিক্ষোভ ঘিরে দায়ের FIR বন্ধ ও নতুন মামলা দায়েরে নিষেধাজ্ঞা সুপ্রিম কোর্টের।
NEET আন্দোলনে বড় স্বস্তি! বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের FIR খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি, এডুকেশন ডেস্ক ৪ : NEET-UG ২০২৬-এর পেপার ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলা ছাত্র আন্দোলনের পর দায়ের হওয়া একাধিক এফআইআর নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে NEET-সংক্রান্ত বিক্ষোভের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নথিভুক্ত এফআইআরগুলি বন্ধ ও খারিজ করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ১ সেপ্টেম্বর এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে দেওয়া বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই নির্দেশ দেয়। আদালত স্পষ্ট করেছে, ২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের ওই বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাগুলি আর তদন্ত বা বিচারপ্রক্রিয়ায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না এবং সেগুলিকে সমস্ত উদ্দেশ্যে বন্ধ বলে গণ্য করতে হবে।
দেশজুড়ে নতুন করে FIR দায়েরেও নিষেধাজ্ঞা
শুধু ইতিমধ্যে দায়ের হওয়া মামলাগুলি বন্ধ করাই নয়, সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, ওই নির্দিষ্ট সময়সীমার বিক্ষোভের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নতুন করে এফআইআর দায়ের করতে পারবে না। দিল্লি, বিহার, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের একাধিক মামলার পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই নির্দেশ কার্যকর হবে।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে উঠে এসেছে, আন্দোলনে শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ যাতে ফৌজদারি মামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আদালত জানিয়েছে, শুধুমাত্র কোনও বিক্ষোভে অংশ নেওয়াকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
তবে গুরুতর অপরাধের অভিযোগে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে উপস্থিত থাকা ২,৮৭৩ জনের বিরুদ্ধে থাকা একটি এফআইআর দিল্লি পুলিশ চালিয়ে যেতে পারবে, কারণ তাঁদের মধ্যে গুরুতর অপরাধের পূর্ব ইতিহাস রয়েছে বলে আদালতের সামনে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে স্বস্তি মিললেও গুরুতর ও জঘন্য অপরাধের অভিযোগ বা সংশ্লিষ্ট অপরাধমূলক ইতিহাস থাকলে তদন্তের পথ পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি।
আদালত একইসঙ্গে স্পষ্ট করেছে, এই বিশেষ নির্দেশটি মামলার নির্দিষ্ট পরিস্থিতির ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে এবং এটিকে ভবিষ্যতের অন্য মামলায় সাধারণ নজির হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস
NEET-UG ২০২৬ বাতিল ও সংশ্লিষ্ট বিতর্কের পর আত্মঘাতী হওয়া শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও শুনানিতে উঠে আসে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টকে জানানো হয়েছে, এই পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য একটি নীতি বা রূপরেখা তৈরি করা হবে। সেই নীতি প্রস্তুত করতে কেন্দ্রকে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
ফলে একদিকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের পথ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে NEET বিতর্কে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও সরকারি নীতির আওতায় আনার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ৫ সেপ্টেম্বরের মিছিল প্রত্যাহার CJP-র
শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) তাদের পূর্বঘোষিত ৫ সেপ্টেম্বরের দিল্লি মিছিল প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সংগঠনের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাস এবং আদালতের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ওই কর্মসূচি আর করা হবে না।
আদালতও দুই পক্ষকে পারস্পরিক আস্থা ও সদিচ্ছার সঙ্গে বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে। ফলে NEET আন্দোলন ঘিরে কেন্দ্র, রাজ্য সরকার এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ছাত্র আন্দোলনে বড় আইনি স্বস্তি
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে NEET আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য বড় আইনি স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা পেপার ফাঁস, পরীক্ষা বাতিল এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার কারণে ভবিষ্যতে চাকরি, উচ্চশিক্ষা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে সমস্যার আশঙ্কা অনেকটাই কমল।
তবে আদালত একইসঙ্গে বুঝিয়ে দিয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং গুরুতর ফৌজদারি অপরাধকে এক চোখে দেখা হবে না। তাই সাধারণ আন্দোলনকারীদের জন্য মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ তৈরি হলেও গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলতে পারে।
সব মিলিয়ে, NEET-UG ২০২৬-কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এফআইআর বন্ধ, নতুন মামলা দায়েরে নিষেধাজ্ঞা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের নীতি এবং ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত মিছিল প্রত্যাহার—সব মিলিয়ে এই সিদ্ধান্ত আন্দোলন পর্বে একটি বড় মোড় তৈরি করেছে।
