শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানের পর সাকিব আল হাসানের বাড়িতে হামলা, তদন্তে পুলিশ
শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর সাকিবের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
সিটি নিউজ বাংলা, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : বাংলাদেশের মাগুরায় প্রাক্তন সংসদ সদস্য তথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের পৈতৃক বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট রাতে মাগুরা শহরের কেশবমোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। হামলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ একদল দুর্বৃত্ত সাকিবের পৈতৃক বাড়ির সামনে আসে। অভিযোগ, বাড়ির গেট লক্ষ্য করে বিস্ফোরক জাতীয় কোনও বস্তু নিক্ষেপ করা হয় অথবা পেট্রলজাতীয় দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে আগুন ধরানোর চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। এতে জানালার কাচ-সহ বাড়ির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলায় ঠিক কী ধরনের দাহ্য বা বিস্ফোরক বস্তু ব্যবহার করা হয়েছিল, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি থেকে আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে সাকিব আল হাসানের অনলাইনে উপস্থিত থাকার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর পৈতৃক বাড়িতে হামলার ঘটনাটি ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ফলে হামলার নেপথ্যে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলটির দাবি, সাকিবের বাড়িতে হামলা পরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ। দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই সাকিব আল হাসানকে ঘিরে একাধিক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ক্রিকেটার পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি সংসদ সদস্য হিসেবেও রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। সেই আবহে তাঁর মাগুরার বাড়িতে হামলার ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।
পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। কারা হামলার সঙ্গে যুক্ত এবং হামলার প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পরই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
