আকাশে আতঙ্ক! ৩০০ ফুট নিচে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান, পাইলটের ড্রাগ টেস্ট নিয়ে বড় প্রশ্ন
ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI 2379 বিমানে তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা কমে যায়। AAIB-এর প্রাথমিক তদন্তে পাইলটের ড্রাগ পরীক্ষার বিষয়টিও উঠে এসেছে।
আকাশে আতঙ্ক! মাঝ-আকাশে ৩০০ ফুট নিচে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান, পাইলটের ড্রাগ টেস্টও পজিটিভ
নয়াদিল্লি, ন্যাশনাল ডেস্ক ১০ : মাঝ-আকাশে আচমকাই বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের মুখে পড়ল এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান। উড়ন্ত অবস্থায় একসঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ হাইড্রোলিক সিস্টেমে চাপ হারিয়ে ফেলায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনায় বিমানের ভিতরে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতঙ্ক। আহত হন একাধিক যাত্রী ও কেবিন ক্রু।

ঘটনার আরও উদ্বেগজনক দিক, এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো বা AAIB-এর প্রাথমিক তদন্তে বিমানের পাইলট-ইন-কমান্ডের সাইকো-অ্যাক্টিভ পদার্থ সংক্রান্ত কনফার্মেটরি পরীক্ষার ফল নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
ঘटनাটি ৪ আগস্ট, ২০২৬-এর ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI 2379 ফ্লাইটের। তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ঘটনার প্রযুক্তিগত কারণ ও অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।
কয়েক সেকেন্ডে প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা হারায় বিমান
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ারবাস A320 বিমানটি ভারতের আকাশসীমার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই গুরুতর প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হয়।
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটির উচ্চতায় বড় পরিবর্তন ঘটে এবং সেটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়।
এই আকস্মিক পরিস্থিতিতে বিমানের ভিতরে আতঙ্ক তৈরি হয়। তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনায় প্রায় ২০ জন যাত্রী এবং চারজন কেবিন ক্রু আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ককপিট ক্রু দ্রুত পদক্ষেপ করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে স্থিতিশীল করে নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করানো সম্ভব হয়।
একসঙ্গে তিন হাইড্রোলিক সিস্টেমে চাপ হারানোর ঘটনা
AAIB-এর প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বিমানের তিনটি প্রধান হাইড্রোলিক সিস্টেম—গ্রিন, ব্লু এবং ইয়েলো—একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চাপ হারিয়ে ফেলেছিল।
বিমানের ফ্লাইট কন্ট্রোল এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা পরিচালনার ক্ষেত্রে এই হাইড্রোলিক সিস্টেমগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনটি সিস্টেমে একসঙ্গে সমস্যা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওই সময় অটোপাইলট বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ককপিটে একাধিক সতর্ক সংকেত সক্রিয় হয়।
তবে ককপিট ক্রুর দ্রুত পদক্ষেপ এবং পরবর্তীতে সিস্টেমগুলির চাপ ফিরে আসায় বিমানটিকে ফের স্থিতিশীল করা সম্ভব হয়।
পাইলটের কনফার্মেটরি ড্রাগ টেস্ট নিয়ে তদন্তে বড় প্রশ্ন
যান্ত্রিক ত্রুটির পাশাপাশি তদন্তে উঠে এসেছে পাইলট-ইন-কমান্ডের সাইকো-অ্যাক্টিভ পদার্থ সংক্রান্ত পরীক্ষার বিষয়টিও।
বিমানটি দিল্লিতে অবতরণের পর নিয়ম অনুযায়ী ক্রু সদস্যদের পরীক্ষা করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষার পর পাইলট-ইন-কমান্ডের নমুনা আরও বিস্তারিত কনফার্মেটরি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় সাইকো-অ্যাক্টিভ পদার্থের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক ফল পাওয়া গিয়েছে। বিষয়টি তদন্তকারী সংস্থা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে।
তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই পরীক্ষার ফলের সঙ্গে উড়ানের সময় ঘটে যাওয়া প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের কোনও সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা চূড়ান্তভাবে বলা সম্ভব নয়।
পাইলটের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের সুপারিশ
AAIB-এর প্রাথমিক রিপোর্টে পাইলটের পরীক্ষার বিষয়টিকে গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষিতে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা DGCA-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার পর পাইলট-ইন-কমান্ড এবং কো-পাইলটকে সাময়িকভাবে উড়ানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
ককপিটে পাইলটের ঘুম নিয়ে নতুন প্রশ্ন
তদন্তে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, উড়ানের একটি সময় পাইলট-ইন-কমান্ড প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট ককপিটে ঘুমিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই তদন্তে প্রযুক্তিগত বিপর্যয় এবং পাইলটের সাইকো-অ্যাক্টিভ পদার্থ সংক্রান্ত পরীক্ষার ফল সামনে আসায় ঘটনাটি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে এই সমস্ত বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, ঘটনার সময় ককপিটে পাইলটদের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য দায় নির্ধারণের জন্য তদন্ত এখনও চলছে।
সব পাইলটের ড্রাগ স্ক্রিনিংয়ে জোর
ঘটনার পর বিমান নিরাপত্তা ও ক্রুদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নজরদারি আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়া তাদের পাইলটদের ক্ষেত্রে ড্রাগ বা সাইকো-অ্যাক্টিভ পদার্থ সংক্রান্ত স্ক্রিনিং আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং ক্রু পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
ড্রাগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে কী নিয়ম?
বিমান চলাচল সংক্রান্ত নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনও কর্মীর সাইকো-অ্যাক্টিভ পদার্থ পরীক্ষায় অস্বাভাবিক ফল পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা হয়।
সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার ফল, নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ধারিত হয়।
পুনর্বাসন, সাময়িকভাবে উড়ান থেকে বিরত রাখা অথবা লাইসেন্স সংক্রান্ত ব্যবস্থা—ঘটনার প্রকৃতি ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
মাঝ-আকাশে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ হাইড্রোলিক সিস্টেমে সমস্যা, আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা পরিবর্তন এবং পাইলটের পরীক্ষার ফল—সব মিলিয়ে ঘটনাটি ভারতীয় বিমান চলাচল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে AAIB-এর তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিমানের হাইড্রোলিক সিস্টেমে একসঙ্গে চাপ হারানোর প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং ঘটনার অন্যান্য দিকের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
এখন নজর AAIB-এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট এবং DGCA-এর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
