ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরে বিলবোর্ড অপসারণ ঘিরে উত্তেজনা, গ্রেপ্তার ১৩
ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরে বিলবোর্ড অপসারণ ঘিরে উত্তেজনা। ধস্তাধস্তির ঘটনায় ১৩ তৃণমূল কর্মী গ্রেপ্তার, একাধিক নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর।
ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরে বিলবোর্ড অপসারণ ঘিরে উত্তেজনা, গ্রেপ্তার ১৩ তৃণমূল কর্মী;
।
কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অফিসের ছাদে থাকা একটি ‘বেআইনি’ বিলবোর্ড অপসারণকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনায় ১৩ জন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলের সঙ্গে প্রশাসনের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, যথাযথ নোটিশ না দেখিয়ে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই পুলিশ ও পুরসভার কর্মীরা জোর করে দফতরে ঢুকে বিলবোর্ড ও দলীয় সাইনবোর্ড সরিয়ে দেন। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, বেআইনি নির্মাণ বা বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত সরকারি পদক্ষেপে বাধা দেওয়া হয় এবং সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি মহিলা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।
পুরসভা-পুলিশের অভিযান ঘিরেই শুরু উত্তেজনা
জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের একটি দল ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরে যায়। দফতরের ছাদে থাকা একটি বিলবোর্ডকে বেআইনি বলে চিহ্নিত করে সেটি খুলে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি অফিসের বাইরে থাকা তৃণমূলের সাইনবোর্ড নিয়েও পদক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ।
অভিযান শুরু হতেই সেখানে উপস্থিত তৃণমূল কর্মী, নেতা ও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে পুলিশ ও পুরকর্মীদের বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যামাক স্ট্রিট এলাকায় কিছু সময়ের জন্য ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বৈধ নোটিশ দেখানোর দাবি তৃণমূলের
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, অফিসে প্রবেশ এবং বিলবোর্ড অপসারণের আগে প্রয়োজনীয় বৈধ নোটিশ দেখানো হয়নি। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি কোনও আইনি নির্দেশ থেকে থাকে, তাহলে তার যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা
উচিত ছিল।
তৃণমূলের আরও অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে দলীয় দফতরকে নিশানা করা হয়েছে এবং এই ঘটনাকে কোনওভাবেই শুধুমাত্র পুরসভার রুটিন অভিযান হিসেবে দেখা যায় না। দলের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশের পাল্টা অভিযোগ
অন্যদিকে পুলিশের তরফে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, সরকারি কর্মীরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। এমনকি মহিলা পুলিশকর্মীদের সঙ্গেও হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় পুলিশ ১৩ জন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অভিষেক ও ডেরেক-সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর
ঘটনার পর আইনি পদক্ষেপ আরও জটিল আকার নেয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই এফআইআর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য, রাজনৈতিকভাবে বিরোধী মতকে চাপে রাখার উদ্দেশ্যেই প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে।
হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা অভিষেকের
ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে এভাবে বলপ্রয়োগ করে প্রবেশ এবং দলীয় সম্পত্তি সরিয়ে দেওয়া অগণতান্ত্রিক আচরণের শামিল।
এই ঘটনার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে।
নতুন করে ব্যানার-পতাকা টাঙালেন কর্মীরা
অভিযানের সময় বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, পুরসভার কর্মীরা সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড সরিয়ে দেওয়ার পর তৃণমূল কর্মীরা সেখানে নতুন করে দলীয় ব্যানার ও পতাকা লাগিয়ে দেন।
ফলে প্রশাসনের পদক্ষেপের পরেও ঘটনাস্থলে রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
রুটিন প্রশাসনিক কাজ, নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা?
পুরসভা ও প্রশাসনের একাংশের বক্তব্য, শহরের বেআইনি বিলবোর্ড ও বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দেওয়া অনুচিত।
অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, অন্য জায়গায় একই ধরনের নিয়ম প্রয়োগ না করে শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরকে নিশানা করা হয়েছে। দলের অভিযোগ, এটি প্রশাসনিক পদক্ষেপের আড়ালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই উদাহরণ।
ফলে ক্যামাক স্ট্রিটের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ফের শাসক দল বনাম প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংঘাত প্রকাশ্যে চলে এসেছে। গ্রেপ্তার, এফআইআর এবং সম্ভাব্য আইনি লড়াই—সব মিলিয়ে আগামী দিনে এই ঘটনা আরও রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
