‘চিকেনস নেক’-এ কড়া নিরাপত্তা, অমিত শাহের বৈঠকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তায় জোর
শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা জোরদারে অমিত শাহের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা, AI ও ড্রোন নজরদারিতে জোর।
‘চিকেনস নেক’-এ কড়া নিরাপত্তা, বৈঠকে অমিত শাহ
শিলিগুড়ি, ন্যাশনাল ডেস্ক: দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত এলাকা শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত, তার নিরাপত্তা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত নিরাপত্তা, গোয়েন্দা নজরদারি, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় এবং সীমান্তবর্তী এলাকার পরিকাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ এই শিলিগুড়ি করিডোর। ফলে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই এলাকার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বৈঠকে করিডোরের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা গ্রিড গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

‘চিকেনস নেক’-এ ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা
শিলিগুড়ি করিডোরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, সংযোগপথ এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে একাধিক স্তরে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সন্দেহজনক গতিবিধি দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াই এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।
সীমান্তবর্তী এলাকার পাশাপাশি করিডোরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিএসএফ-এসএসবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে জোর
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে বিএসএফ, এসএসবি, গোয়েন্দা সংস্থা এবং রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় কোনও সন্দেহজনক গতিবিধির তথ্য পাওয়া গেলে যাতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার কাছে পৌঁছে যায়, সেই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সমন্বিত নজরদারির মাধ্যমে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করাই লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে।
নজরদারিতে ড্রোন ও AI প্রযুক্তি
প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। শিলিগুড়ি করিডোর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-ভিত্তিক নজরদারি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
দুর্গম সীমান্ত এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে নজরদারি আরও কার্যকর করতে প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দার্জিলিং পাহাড়ের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা
নিরাপত্তার পাশাপাশি দার্জিলিং পাহাড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গোর্খা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাহাড়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে।
নিরাপত্তার পাশাপাশি পাহাড়ের মানুষের রাজনৈতিক ও সামাজিক দাবিগুলিকেও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
উত্তর-পূর্বের নিরাপত্তায় নতুন কৌশল
শিলিগুড়ি করিডোরের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগের প্রধান সংযোগপথগুলির অন্যতম হওয়ায় করিডোরটির নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অমিত শাহের নেতৃত্বে বৈঠকে সীমান্ত সুরক্ষা, আন্তঃসংস্থা সমন্বয়, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ফলে আগামী দিনে শিলিগুড়ি করিডোর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
