বিদ্যাসাগরের জন্মদিনের আগে মূর্তি পরিষ্কার ও রং করলেন কোচবিহারের ‘বাইক অক্সিজেন ম্যান’ শংকর রায়
২৬ সেপ্টেম্বর বিদ্যাসাগরের ২০৬তম জন্মবার্ষিকীর আগে কোচবিহারে দুটি বিদ্যাসাগরের মূর্তি নিজের হাতে পরিষ্কার ও রং করলেন ‘বাইক অক্সিজেন ম্যান’ শংকর রায়।
বিদ্যাসাগরের জন্মদিনের আগে মূর্তি পরিষ্কার ও রং করলেন কোচবিহারের ‘বাইক অক্সিজেন ম্যান’ শংকর রায়
কোচবিহার: আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৬তম জন্মবার্ষিকী। জন্মদিনের আগে কোচবিহার শহরের দুটি পৃথক স্থানে থাকা বিদ্যাসাগরের মূর্তি নিজের হাতে পরিষ্কার করে রং-তুলির মাধ্যমে নতুন করে সাজিয়ে তুললেন কোচবিহারের পরিচিত সমাজকর্মী ও ‘বাইক অক্সিজেন ম্যান’ শংকর রায়।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই নিজের উদ্যোগে বিভিন্ন মনীষীর মূর্তি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং রং করে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছেন শংকর রায়। বিদ্যাসাগরের জন্মদিন ও প্রয়াণ দিবসকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই তিনি বিশেষভাবে মূর্তি পরিষ্কার ও রং করার উদ্যোগ নেন। শুধু বিশেষ দিনেই নয়, প্রায় এক মাস অন্তর নিয়মিতভাবে বিদ্যাসাগরের মূর্তি পরিষ্কার করেন বলেও জানা গিয়েছে।
এবারও জন্মদিনের আগে কোচবিহারের দুটি জায়গায় থাকা বিদ্যাসাগরের মূর্তি নিজের হাতে পরিষ্কার করেন তিনি। এরপর রং-তুলির সাহায্যে মূর্তিগুলিকে নতুন রূপ দেন। মূর্তির আশপাশে থাকা গাছপালা ও জমে থাকা আবর্জনাও পরিষ্কার করেন। পুরো কাজটি তিনি নিজের উদ্যোগেই করেন।
এই কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেছেন তাঁর ছোট ভাই চিরঞ্জিত মৈত্র। তাঁদের এই উদ্যোগে কোনও আনুষ্ঠানিক আয়োজনের জাঁকজমক নেই। নিজের শ্রম, সময় ও সামান্য খরচেই মনীষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এই কাজ করে চলেছেন তাঁরা।
শংকর রায়ের উদ্যোগ শুধু মূর্তি পরিষ্কার ও রং করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যাসাগরের জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছর তিনি ছোট ছোট শিশুদের হাতে বই তুলে দেন। তাঁর মতে, মহান মানুষদের স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁদের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াটাও জরুরি।
শংকর রায় বলেন, “পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আমাদের দেশের গর্ব, বাংলার গর্ব। এই মহান মানুষদের আমরা ভুলে গেলে চলবে না। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্যই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এই কাজ করে আসছি। মূর্তি পরিষ্কার ও রং করার পাশাপাশি ছোটদের হাতে বই তুলে দেওয়ার চেষ্টা করি, যাতে তাঁদের সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম জানতে পারে।”
কোচবিহারের ‘বাইক অক্সিজেন ম্যান’ হিসেবে পরিচিত শংকর রায়ের এই উদ্যোগে উঠে এসেছে অন্যরকম এক শ্রদ্ধার ছবি। কোনও বড় আয়োজন নয়, নিজের হাতে পরিচর্যা করে মনীষীদের স্মরণ করার এই ধারাবাহিক উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
