কোচবিহার স্টোরিস প্রোফাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কলেজের নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর দাবি
‘কোচবিহার স্টোরিস’ প্রোফাইল থেকে বি.টি. অ্যান্ড ইভিনিং কলেজের নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ। সাংবাদিক বৈঠকে আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত কলেজ কর্তৃপক্ষের।
‘কোচবিহার স্টোরিস’ প্রোফাইল থেকে কলেজের নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ

কোচবিহার, ডিস্ট্রিক্ট ডেস্ক ১০ : সামাজিক মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট প্রোফাইল থেকে কোচবিহারের বি.টি. অ্যান্ড ইভিনিং কলেজের নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে—এমনই অভিযোগ তুলে সাংবাদিক বৈঠক করল কলেজ কর্তৃপক্ষ। বুধবার দুপুরে কলেজ প্রাঙ্গণে এই সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি করা হয়, গত জুলাই মাস থেকেই ‘কোচবিহার স্টোরিস’ নামে একটি সামাজিক মাধ্যমের প্রোফাইল থেকে কলেজকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ওইসব তথ্যের ফলে কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পড়ুয়া, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই কলেজের তরফে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়।
জুলাই থেকেই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ
সাংবাদিক বৈঠকে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, গত জুলাই মাস থেকে সামাজিক মাধ্যমে কলেজের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। কলেজের বক্তব্য, ওই তথ্যগুলির মধ্যে বেশ কিছু তথ্য বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তবে বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরে আসে সম্প্রতি। তাঁদের দাবি, মঙ্গলবার রাতেই তাঁরা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ে কলেজের অভ্যন্তরে আলোচনা শুরু হয় এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে বিষয়টি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাংবাদিক বৈঠকে কলেজের বক্তব্য
বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তাঁদের বক্তব্য, কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে যদি এমন কোনও তথ্য প্রচার করা হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, সামাজিক মাধ্যমে তথ্য প্রকাশের আগে তার সত্যতা যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব পড়ুয়া ও অভিভাবকদের উপরও পড়তে পারে।
আইনি পদক্ষেপের পথে কলেজ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বি.টি. অ্যান্ড ইভিনিং কলেজ কর্তৃপক্ষ। সাংবাদিক বৈঠকে তাঁরা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোন ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে কলেজের নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়টি তাঁরা হালকাভাবে দেখছেন না।
তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য সামনে আনার দাবি
কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে আরও জানানো হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে কোনও তথ্য ছড়িয়ে পড়লেই তা সত্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কলেজের বক্তব্য এবং প্রকৃত তথ্য যাচাই করে তবেই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আবেদন জানানো হয়েছে।
এদিকে, ‘কোচবিহার স্টোরিস’ নামে যে প্রোফাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেই প্রোফাইলের তরফে এ বিষয়ে কোনও বক্তব্য বা ব্যাখ্যা রয়েছে কি না, তা এই মুহূর্তে স্পষ্ট নয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচবিহারের শিক্ষা মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
