ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড় দাবি রাজ্যের, ৭,৭০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা জানাল সরকার
বকেয়া ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের দাবি, প্রায় ৬৫ শতাংশ বকেয়া মেটানো হয়েছে এবং ৭,৭০০ কোটির বেশি টাকা দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের পাল্টা দাবি, এখনও বহুজন টাকা পাননি।
ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড় দাবি রাজ্যের, ৭,৭০০ কোটির বেশি টাকা দেওয়ার কথা জানাল সরকার
সিটি নিউজ বাংলা, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে ফের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এল সুপ্রিম কোর্টে। বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইতিমধ্যেই মোট বকেয়ার প্রায় ৬৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই খাতে ৭,৭০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ প্রদান করা হয়েছে বলেও আদালতে জানিয়েছে রাজ্য।
তবে রাজ্য সরকারের এই দাবির সঙ্গে একমত নন কর্মীদের পক্ষের আইনজীবীরা। তাঁদের দাবি, এখনও বহু সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া ডিএ পাননি। ফলে রাজ্যের দেওয়া হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের বক্তব্য
বকেয়া ডিএ মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী তুষার মেহতা। রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই অনেকটাই এগিয়েছে।
রাজ্যের দাবি অনুযায়ী, মোট বকেয়ার প্রায় ৬৫ শতাংশ ইতিমধ্যেই কর্মী ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের দেওয়া হয়েছে। এই খাতে এখন পর্যন্ত ৭,৭০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ প্রদান করা হয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়। বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া এখনও চলছে বলে রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রাজ্যের দাবির বিরোধিতা কর্মীদের
অন্যদিকে, সরকারি কর্মীদের পক্ষের আইনজীবীরা রাজ্যের এই হিসাব নিয়ে আপত্তি জানান। কর্মীদের হয়ে আইনজীবী করুণা নন্দী ও ফিরদৌস শামিম আদালতে দাবি করেন, রাজ্যের দেওয়া হিসাবের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির পুরোপুরি মিল নেই।

তাঁদের বক্তব্য, বহু সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগী এখনও তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া ডিএ পাননি। তাই কতজন কর্মী বকেয়া পেয়েছেন এবং কতজন এখনও বঞ্চিত রয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা জরুরি।
বকেয়া না-পাওয়া কর্মীদের তালিকা চাইল আদালত
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, যেসব সরকারি কর্মী এখনও বকেয়া ডিএ পাননি, তাঁদের সুনির্দিষ্ট নামের তালিকা আদালতের সামনে জমা দিতে হবে।
এর ফলে শুধু মোট কত টাকা দেওয়া হয়েছে বা বকেয়ার কত শতাংশ মেটানো হয়েছে—এই হিসাবের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকছে না। বাস্তবে কোন কোন কর্মী এখনও বকেয়া ডিএ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন, সেই তথ্যও আদালতের সামনে আসবে।
পরবর্তী শুনানিতে নজর
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে বকেয়া ডিএ মামলায় নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি হয়েছে। একদিকে রাজ্য সরকার ৬৫ শতাংশ বকেয়া মেটানোর দাবি করছে, অন্যদিকে কর্মীদের একাংশ এখনও প্রাপ্য অর্থ না পাওয়ার অভিযোগ তুলছেন।
পরবর্তী শুনানিতে বকেয়া ডিএ না-পাওয়া কর্মীদের তালিকা এবং রাজ্যের দেওয়া অর্থের হিসাবের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের।
