আলিপুরদুয়ারে ৮০ কেজিরও বেশি পোস্তজাত মাদক উদ্ধার, গ্রেফতার ৩
আলিপুরদুয়ারের উত্তর সোনাপুরে পুলিশের অভিযানে ৮০ কেজিরও বেশি পোস্তজাত সামগ্রী Myself। গ্রেফতার ৩, বাজেয়াপ্ত গ্রাইন্ডার মেশিন। তদন্তে বড় চক্রের খোঁজ।
আলিপুরদুয়ারে ৮০ কেজিরও বেশি পোস্তজাত মাদক উদ্ধার, গ্রেফতার ৩
সিটি নিউজ বাংলা, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার থানার উত্তর সোনাপুর এলাকায় বড়সড় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৮০ কেজিরও বেশি পোস্তজাত সামগ্রী উদ্ধার করল পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শুকনো পোস্তর খোসা, পোস্ত ক্রাস্ট, পোস্তদানা এবং একটি ব্যবহৃত গ্রাইন্ডার মেশিন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮ আগস্ট উত্তর সোনাপুর এলাকার একটি বাড়িতে বিপুল পরিমাণ পোস্তজাত মাদক মজুত থাকার খবর পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আলিপুরদুয়ার-I ব্লকের BDO-ও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রথম বাড়ি থেকে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ সামগ্রী
তল্লাশিতে প্রথম বাড়ি থেকে প্রায় ৭৬ কেজি শুকনো পোস্তর খোসা, ২০ কেজি পোস্ত ক্রাস্ট, প্রায় ৪ কেজি ধুলোসহ পোস্তদানা এবং একটি ব্যবহৃত গ্রাইন্ডার মেশিন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া সামগ্রী আইন মেনে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তকরণের পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফিও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে দ্বিতীয় বাড়িতে অভিযান
প্রথম অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর সোনাপুরের আরও একটি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে প্রায় ৬.৫৬ কেজি শুকনো পোস্তর খোসা উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস কোথায় এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
NDPS আইনে মামলা, তদন্তে একাধিক দিক
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে NDPS Act-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদকদ্রব্য কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কোথায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল এবং এর পিছনে কোনও বড় চক্র রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক প্রক্রিয়াও তদন্তের অংশ হিসেবে করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
বড় মাদকচক্রের সন্ধানে পুলিশ
বিপুল পরিমাণ পোস্তজাত সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তকারীদের নজর এখন সম্ভাব্য সরবরাহ নেটওয়ার্কের দিকে। উদ্ধার হওয়া গ্রাইন্ডার মেশিনটি কী কাজে ব্যবহার করা হত, মাদকদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে এর কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পাশাপাশি অভিযুক্তদের যোগাযোগ, মোবাইল ফোন এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্যও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। গোটা ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা স্পষ্ট নয়।
উত্তর সোনাপুরে এই অভিযানের পর আলিপুরদুয়ার পুলিশের নজর এখন মাদক সরবরাহের উৎস এবং সম্ভাব্য বৃহত্তর নেটওয়ার্কের দিকে।
