দিনহাটায় নাকা তল্লাশিতে ৯০ লক্ষ টাকার সোনার বিস্কুট উদ্ধার, গ্রেফতার পাচারকারী
দিনহাটার ফকিরটারি এলাকায় নাকা তল্লাশিতে প্রায় ৯০ লক্ষ টাকার পাঁচটি সোনার বিস্কুট উদ্ধার। বিশেষ বেল্টে সোনা লুকিয়ে পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার রেজাউল হক।
দিনহাটায় নাকা তল্লাশিতে প্রায় ৯০ লক্ষ টাকার সোনার বিস্কুটসহ গ্রেফতার পাচারকারী

কোচবিহার, ডিস্ট্রিক্ট ডেস্ক ৭ : রাতের অন্ধকারে সোনা পাচারের ছক ভেস্তে দিল পুলিশ। কোচবিহারের দিনহাটা-সাহেবগঞ্জ রোডের ফকিরটারি এলাকায় নাকা তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা মূল্যের পাঁচটি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সোনা অত্যন্ত কৌশলে শরীরের সঙ্গে থাকা বিশেষ বেল্টের ভিতরে লুকিয়ে পাচার করা হচ্ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সোনা পাচারের একটি বড় চক্রের সঙ্গে এই ব্যক্তির যোগাযোগ থাকতে পারে।
নাকা তল্লাশিতে ধরা পড়ল পাচারের ছক
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে দিনহাটা-সাহেবগঞ্জ রোডের ফকিরটারি এলাকায় নিয়মিত নাকা তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। সেই সময় সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে এক যুবককে আটক করে পুলিশ।
এরপর তাঁর শরীর ও সঙ্গে থাকা জিনিসপত্রে তল্লাশি চালাতেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ট্রাউজার্সের বেল্টের ভিতরে বিশেষভাবে তৈরি একটি পকেটের মধ্যে লুকিয়ে রাখা ছিল একাধিক সোনার বিস্কুট।
বিশেষ বেল্টের ভিতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল সোনা
পুলিশের দাবি, পাচারকারী অত্যন্ত কৌশলে সোনার বিস্কুটগুলি শরীরের সঙ্গে থাকা একটি বিশেষ বেল্টের ভিতরে লুকিয়ে রেখেছিলেন। সাধারণভাবে বাইরে থেকে দেখলে সেই সোনা বোঝার উপায় ছিল না।
তল্লাশির সময় বেল্টটি পরীক্ষা করতেই উদ্ধার হয় পাঁচটি সোনার বিস্কুট। উদ্ধার হওয়া সোনার ওজন নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী মোট ওজন প্রায় ৫৮২ গ্রাম, যদিও অন্য একটি সূত্রে ওজন প্রায় ৬৮১ গ্রাম বলে দাবি করা হয়েছে। বাজারমূল্য আনুমানিক ৯০ লক্ষ টাকা বলে জানা গিয়েছে।
ধৃতের পরিচয়
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম রেজাউল হক। কিছু সূত্রে তাঁর নাম রেজাউল করিম বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি সীমান্তবর্তী চৌধুরীহাট এলাকায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা হওয়ার কারণে তাঁর গতিবিধি এবং সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
আগেই মিলেছিল পাচারের খবর
পুলিশ সূত্রের খবর, সোনা পাচারের বিষয়ে আগে থেকেই গোপন সূত্রে তথ্য পেয়েছিল পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নির্দিষ্ট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয় এবং রাতে নাকা তল্লাশি চালানো হয়।
তদন্তকারীদের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়। তাঁর কাছ থেকে সোনা উদ্ধারের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বড় চক্রের সন্ধানে তদন্ত
এই সোনা কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং এই পাচারের পিছনে আর কারা রয়েছে—এখন সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের অনুমান, ধৃত ব্যক্তি শুধুমাত্র বাহক হিসেবে কাজ করছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোনা পাচারের সঙ্গে যুক্ত কোনও আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য চক্রের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
আদালতে পেশ, হেফাজতের আবেদন
গ্রেফতারের পর অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সোনা পাচারের সম্পূর্ণ রুট, পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের পরিচয় এবং মূল পান্ডাদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
দিনহাটায় প্রায় ৯০ লক্ষ টাকার সোনা উদ্ধারের এই ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে সোনা পাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আগামী দিনে আরও জোরদার করা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
