জাল আধার-প্যান-ভোটার কার্ড চক্রের হদিশ, উদ্ধার অস্ত্র ও বায়োমেট্রিক সরঞ্জাম
উত্তর ২৪ পরগনায় টাকার বিনিময়ে জাল আধার, প্যান ও ভোটার কার্ড তৈরির অভিযোগে চক্রের হদিশ। গ্রেফতার ১, উদ্ধার অস্ত্র ও বায়োমেট্রিক সরঞ্জাম।
টাকার বিনিময়ে জাল আধার-প্যান-ভোটার কার্ড! উদ্ধার অস্ত্র ও বায়োমেট্রিক সরঞ্জাম
উত্তর ২৪ পরগনা, স্টেট ডেস্ক: টাকার বিনিময়ে বেআইনিভাবে আধার, প্যান ও ভোটার কার্ড তৈরির অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনায় একটি চক্রের হদিশ মিলেছে। টিটাগড় স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে আমডাঙা থানার পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক ও বায়োমেট্রিক সরঞ্জাম। পাশাপাশি ধৃতের কাছ থেকে একটি বেআইনি অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে টিটাগড় স্টেশন সংলগ্ন একটি নির্দিষ্ট জায়গায় অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে টাকার বিনিময়ে সাধারণ মানুষের জন্য ভুয়ো ও জাল পরিচয়পত্র তৈরির কারবার চলছিল। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ, বায়োমেট্রিক ডিভাইস, ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার এবং আই স্ক্যানার উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় বেআইনি নথি তৈরির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকেই বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। ফলে জাল নথি তৈরির পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে অস্ত্র কারবার বা অন্য কোনও অপরাধমূলক যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে, একজনের নাম ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তির ঠিকানা ও পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য জুড়ে দিয়ে বিভিন্ন সরকারি নথি তৈরি করা হতো। বিশেষ করে ভোটার কার্ড-সহ একাধিক পরিচয়পত্রে তথ্যের কারচুপি করা হয়েছে বলে সন্দেহ পুলিশের। এই ধরনের জালিয়াতি প্রমাণিত হলে সরকারি নথির নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে পারে।
উদ্ধার হওয়া বায়োমেট্রিক সরঞ্জাম নিয়েও বিশেষভাবে তদন্ত করছে পুলিশ। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আই স্ক্যানারের মতো যন্ত্র কীভাবে ব্যবহার করা হতো, সেগুলির মাধ্যমে কোনও সরকারি পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়ায় কারচুপি করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া কম্পিউটার ও ল্যাপটপ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ঘটনাটি কোনও বিচ্ছিন্ন জালিয়াতির ঘটনা নাও হতে পারে। এর পিছনে আরও কয়েকজন ব্যক্তি সক্রিয় থাকতে পারেন বলে সন্দেহ। চক্রটির সঙ্গে অন্য জেলা, আন্তঃরাজ্য বা বৃহত্তর কোনও নেটওয়ার্কের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, কতদিন ধরে এই কারবার চলছিল, কতজনের জন্য জাল নথি তৈরি করা হয়েছে, কারা এর জন্য টাকা দিত এবং তৈরি হওয়া নথিগুলি কোথায় বা কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্য ও নথির ভিত্তিতে আর্থিক লেনদেন এবং যোগাযোগের নেটওয়ার্কও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর টিটাগড় স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও ব্যক্তিদের সন্ধানে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও গ্রেফতার এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
