ধৃত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, গীতালদহ পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা-ভাঙচুর
তৃণমূল কর্মী খুনের মামলায় ধৃত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দিনহাটার গীতালদহ পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা ও ভাঙচুর। জখম ৩ পুলিশকর্মী, গ্রেফতার ১২।
ধৃত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ! দিনহাটার গীতালদহ পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা-ভাঙচুর
কোচবিহার, ডিস্ট্রিক্ট ডেস্ক ৭ : একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক আসামিকে পুলিশি হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহারের দিনহাটার গীতালদহ এলাকা।

অভিযোগ, ধৃত আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে একদল দুষ্কৃতী গীতালদহ পুলিশ ফাঁড়িতে চড়াও হয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর জখম হন কর্তব্যরত তিনজন পুলিশকর্মী।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে পুলিশ।
তৃণমূল কর্মী খুনের মামলায় গ্রেফতার
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে সংঘটিত একটি তৃণমূল কর্মী খুনের মামলায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে সামাদ আলি ওরফে পাগলা-র। দীর্ঘদিন ধরে ওই মামলায় তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ।
অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দিনহাটা থানার পুলিশ সীমান্তবর্তী জারিধরলা গ্রাম থেকে সামাদ আলিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য গীতালদহ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়।
ফাঁড়িতে চড়াও হয়ে আসামিকে ছাড়ানোর চেষ্টা
অভিযোগ, সামাদ আলিকে ফাঁড়িতে নিয়ে আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন অনুগামী এবং দুষ্কৃতীরা সেখানে জড়ো হয়। এরপর আচমকাই তাঁরা পুলিশ ফাঁড়িতে চড়াও হয়ে ধৃত আসামিকে জোর করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকর্মীরা বাধা দিলে শুরু হয় উত্তেজনা। অভিযোগ, হামলাকারীরা লাঠিসোটা-সহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে পুলিশকর্মীদের ওপর চড়াও হয়। ফাঁড়ির বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর চালানো হয় এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করা হয়।
হামলায় জখম ৩ পুলিশকর্মী
হামলাকারীদের আক্রমণে কর্তব্যরত তিনজন পুলিশকর্মী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং ধৃত আসামিকে নিরাপদে হেফাজতে রাখা হয়েছে। হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়।
১২ জন গ্রেফতার
ঘটনার পরই বড়সড় অভিযান শুরু করে পুলিশ। কোচবিহারের পুলিশ সুপার মনীশ জোশী জানিয়েছেন, পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, হামলার ঘটনায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত, কাউকেই রেয়াত করা হবে না। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে আরও কারা জড়িত ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।
এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি
ঘটনার পর গীতালদহ ও সংলগ্ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় নিয়মিত টহলও চলছে বলে জানা গিয়েছে।
একইসঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িত বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার আগে ও পরে এলাকায় কারা উপস্থিত ছিল, হামলার পিছনে কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না এবং ধৃত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য কারা হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছিল—এসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ফাঁড়িতে হামলায় বাড়ছে উদ্বেগ
একজন গ্রেফতার হওয়া আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে সরাসরি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় প্রশাসনিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং পুলিশি হেফাজত থেকে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে পুলিশের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
গীতালদহের এই ঘটনার পর এখন নজর রয়েছে তদন্তের পরবর্তী গতিপথের দিকে। ধৃত ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
