H-1B ভিসায় বড় বদল? ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের
H-1B ভিসাধারীদের চাকরি হারানোর পর ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে নিয়মটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
চাকরি গেলেই আর ৬০ দিন নয়? H-1B ভিসাধারীদের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের
ওয়াশিংটন, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ৪: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে এসেছে। চাকরি হারানোর পর H-1B ভিসাধারীদের বর্তমানে যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে, তা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে চাকরি শেষ হওয়ার পর নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজা বা বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস বজায় রাখার জন্য আগের মতো ৬০ দিনের সময়সীমা নাও থাকতে পারে।

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মার্কিন Department of Homeland Security (DHS) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রস্তাবিত নিয়ম পরিবর্তনের বিষয়টি প্রকাশ করেছে। প্রশাসনের বক্তব্য, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের কর্মসংস্থানের বাজারে মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
চাকরি হারালে কী হবে?
বর্তমান নিয়মে H-1B ভিসাধারী কোনও কর্মীর চাকরি শেষ হয়ে গেলে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে তিনি সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত সময় পান। এই সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজা, নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়া কিংবা অন্য কোনও বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাসে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার সুযোগ থাকে।
প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে এই সুরক্ষা আর নাও থাকতে পারে। কর্মসংস্থান বা অনুমোদিত থাকার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দ্রুত বৈধ স্ট্যাটাস নিশ্চিত করার প্রয়োজন হতে পারে। তা না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধতা নিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে এবং দেশ ছাড়ার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
অর্থাৎ, চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থান খোঁজার জন্য বিদেশি কর্মীদের হাতে থাকা বর্তমান সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হতে পারে।
শুধু H-1B নয়, প্রভাব পড়তে পারে অন্যান্য ভিসাতেও
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রভাব শুধু H-1B ভিসাধারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত আরও কিছু ভিসা ও অভিবাসন স্ট্যাটাসের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে যাঁরা নির্দিষ্ট মার্কিন নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপের ভিত্তিতে কাজ করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে চাকরি হারানোর পর দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করার চাপ বাড়তে পারে।
ভারতীয় IT পেশাজীবীদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
মার্কিন প্রযুক্তি শিল্পে ভারতীয় পেশাজীবীদের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে। সফটওয়্যার, তথ্যপ্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অন্যান্য উচ্চদক্ষতার পেশায় বহু ভারতীয় H-1B ভিসার মাধ্যমে কাজ করছেন।
ফলে গ্রেস পিরিয়ড সংক্রান্ত এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতীয় IT পেশাজীবীদের ওপর তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে কোনও সংস্থায় হঠাৎ কর্মী ছাঁটাই হলে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার জন্য হাতে থাকা সময় কমে যাওয়ায় কর্মীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
মার্কিন প্রযুক্তি শিল্পে নিয়মিত কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি বিদেশি কর্মীদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিয়োগকর্তাদের ওপরও বাড়বে চাপ
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে শুধু কর্মীরাই নন, নিয়োগকর্তাদেরও দ্রুততার সঙ্গে অভিবাসন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে। কোনও H-1B কর্মীর চাকরি শেষ হওয়ার পর নতুন নিয়োগকর্তার কাছে স্থানান্তর, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার প্রয়োজন বাড়তে পারে।
এর ফলে কর্মী এবং নিয়োগকারী সংস্থা—দুই পক্ষের ওপরই প্রশাসনিক ও আইনি চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এখনই ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বন্ধ হচ্ছে না
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রস্তাবিত নিয়ম এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ফলে এই মুহূর্তে H-1B ভিসাধারীদের জন্য ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়ে যাচ্ছে—এমনটা বলা ঠিক হবে না।
DHS প্রস্তাবিত নিয়মের ওপর সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকর্তা এবং অন্যান্য অংশীজনের মতামত চাইছে। মতামত পর্যালোচনার পর প্রশাসন নিয়মটি সংশোধন করতে পারে, চূড়ান্ত করতে পারে অথবা প্রস্তাবের ক্ষেত্রে অন্য কোনও পরিবর্তন আনতে পারে।
১০ নভেম্বর পর্যন্ত মতামত জানানোর সুযোগ
প্রস্তাবিত নিয়ম নিয়ে মতামত জানানোর জন্য ১০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা এবং অন্যান্য অংশীজন তাঁদের মতামত ও আপত্তি প্রশাসনের কাছে জানাতে পারবেন।
এরপর DHS জমা পড়া মতামত পর্যালোচনা করবে। পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ করা হলে তবেই বোঝা যাবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন কতটা এবং কীভাবে কার্যকর হচ্ছে।
ভারতীয় কর্মীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য চাকরি হারানোর পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে H-1B ভিসার ওপর নির্ভরশীল ভারতীয় IT পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে দ্রুত নতুন চাকরি বা বিকল্প অভিবাসন স্ট্যাটাসের ব্যবস্থা করার প্রয়োজন হতে পারে।
তবে আপাতত বর্তমান নিয়মই কার্যকর রয়েছে। চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত H-1B কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বহাল রয়েছে। আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত মতামত গ্রহণ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে, শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয় কি না।
