মাহেশে মমতার সভা স্থগিত, ডিভিশন বেঞ্চে সিঙ্গল বেঞ্চের অনুমতিতে স্থগিতাদেশ
কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের হস্তক্ষেপে মাহেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুক্রবারের সভা স্থগিত। বিকল্প স্থান বেছে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব আদালতের।
ডিভিশন বেঞ্চের হস্তক্ষেপে মাহেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা স্থগিত, বিকল্প স্থান খোঁজার নির্দেশ
হুগলি, স্টেট ডেস্ক ৫: কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের হস্তক্ষেপে শুক্রবার হুগলির মাহেশে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্ধারিত সভা আপাতত স্থগিত হয়ে গেল। সভাস্থল নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার জেরে সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া অনুমতির ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে ডিভিশন বেঞ্চ। পাশাপাশি, রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য এমন বিকল্প স্থান বেছে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বড় ধরনের সমস্যা না হয়।

মাহেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই প্রশাসনিক ও আইনি টানাপোড়েন চলছিল। প্রথমে মিছিলের অনুমতি নিয়ে পুলিশের আপত্তি ওঠে। পরে সেই বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে পৌঁছয়। একের পর এক আইনি পদক্ষেপের পর শেষ পর্যন্ত শুক্রবারের সভাও আপাতত স্থগিত হয়ে গেল।
জিটি রোডে যানজটের আশঙ্কা, মিছিল নিয়ে পুলিশের আপত্তি
মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচির অন্যতম অংশ ছিল মাহেশ এলাকায় মিছিল। মিছিলের সম্ভাব্য রুট হিসেবে জিটি রোড ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসতেই আপত্তি জানায় পুলিশ। প্রশাসনের আশঙ্কা ছিল, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে বড় মিছিল হলে ব্যাপক যানজট তৈরি হতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং দৈনন্দিন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই কারণেই প্রাথমিকভাবে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরপর বিষয়টি আদালতে গড়ায় এবং বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়।
সিঙ্গল বেঞ্চে মিছিলের বদলে সভার অনুমতি
বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ মামলাটি শুনে মিছিলের পরিবর্তে সীমিত পরিসরে সভা করার অনুমতি দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মাহেশের জগন্নাথদেব স্নানপিণ্ডি ময়দানে সভা করার বিষয়টি সামনে আসে।
তবে আদালতের দেওয়া অনুমতির পরেও সভাস্থল নিয়ে নতুন করে আপত্তি ওঠে। ফলে বিষয়টি ফের উচ্চ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চে পৌঁছয়।
সভাস্থল নিয়ে রাজ্যের আপত্তি
সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশের পর সভাস্থল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, যে মাঠে সভার অনুমতি দেওয়া হয়েছে সেটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং সেখানে ধর্মীয় কার্যকলাপও হয়ে থাকে।
এই পরিস্থিতিতে ওই জায়গায় রাজনৈতিক সভার অনুমতি দেওয়া হলে জমির মালিকানা, ধর্মীয় ব্যবহার এবং স্থানীয় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়।
সিঙ্গল বেঞ্চের অনুমতিতে স্থগিতাদেশ
এরপর মামলাটি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে ওঠে। শুনানির সময় সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং জনস্বার্থের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া সভার অনুমতির ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য এমন জায়গা বেছে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়, যেখানে সাধারণ মানুষের চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হবে না।
ফলে শুক্রবার মাহেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্ধারিত সভা আপাতত হচ্ছে না।
জনদুর্ভোগ এড়ানোই অন্যতম বিবেচনা
মাহেশ ও সংলগ্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ জিটি রোড। সেখানে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি হলে যান চলাচলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আদালতের হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং জনজীবন যাতে অচল না হয়ে পড়ে, সেই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক কর্মসূচি করার অধিকার থাকলেও তার জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করা প্রয়োজন—আদালতের অবস্থানে সেই বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে।
এবার নজর তৃণমূলের পরবর্তী সিদ্ধান্তে
ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের পর এখন নজর তৃণমূলের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচি সম্পূর্ণ বাতিল করা হবে, নাকি অন্য কোনও উপযুক্ত জায়গায় সভার আয়োজন করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সব মিলিয়ে, প্রথমে মিছিলের অনুমতি নিয়ে আপত্তি, পরে সিঙ্গল বেঞ্চের শর্তসাপেক্ষে সভার অনুমতি এবং শেষ পর্যন্ত ডিভিশন বেঞ্চের স্থগিতাদেশ—পরপর আইনি জটিলতায় মাহেশে শুক্রবারের মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচি আপাতত থমকে গেল। এখন বিকল্প সভাস্থল নির্ধারণ করে কর্মসূচি করা যায় কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
