মস্কোয় জয়শঙ্কর, ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা
মস্কোয় দুই দিনের সফরে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক, বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও BRICS নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।
মস্কোয় জয়শঙ্কর, ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা
সিটি নিউজ বাংলা, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ২৩ আগস্ট ২০২৬: দুই দিনের সরকারি সফরে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় পৌঁছেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ২৩ ও ২৪ আগস্টের এই সফরকে ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সফরকালে বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

জয়শঙ্কর মস্কো সফরে রাশিয়ার প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মান্টুরভের সঙ্গে যৌথভাবে ভারত-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশনের ২৭তম অধিবেশনের সহ-সভাপতিত্ব করবেন। পাশাপাশি রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারত-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশনের বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হল ২৭তম ভারত-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশন (IRIGC-TEC)-এর বৈঠক। এই কমিশনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা থেকে শুরু করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হবে।
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ভারত ও রাশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বাড়ানোর বিষয়টিও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন বৃদ্ধি, নতুন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জয়শঙ্কর ও মান্টুরভের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে দুই দেশের বিভিন্ন মন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন বলে জানা গিয়েছে।
লাভরভের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক জয়শঙ্করের
মস্কো সফরে রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করবেন জয়শঙ্কর। ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে দুই বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে মতবিনিময় হতে পারে।
বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মধ্যে ভারত ও রাশিয়ার পারস্পরিক অবস্থান এবং দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা।
BRICS নিয়েও প্রস্তুতিমূলক আলোচনা
জয়শঙ্করের মস্কো সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল আসন্ন BRICS শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা। BRICS-এর সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, বহুপাক্ষিক কূটনীতি এবং বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি BRICS-এর মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের দিকে বিশেষ নজর
ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হল বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জয়শঙ্করের সফরে বাণিজ্য বাধা কমানো, অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সহজ করার বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতাও আলোচনায়
শুধু অর্থনীতি বা কূটনীতি নয়, ভারত-রাশিয়ার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও দীর্ঘদিনের। মহাকাশ, গবেষণা, প্রযুক্তি এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়টিও ভারত-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশনের আলোচনায় স্থান পেতে পারে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ সফর
বর্তমান আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে জয়শঙ্করের মস্কো সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ভারত একদিকে যেমন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে, তেমনই রাশিয়ার সঙ্গেও ঐতিহাসিক ও বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জয়শঙ্করের এই সফরের মাধ্যমে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র পর্যালোচনা করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা তৈরির সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দুই দিনের সফর শেষে জয়শঙ্করের বৈঠকগুলি থেকে বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে আগামী দিনে আরও বিস্তৃত ও বহুমুখী করার ক্ষেত্রে এই সফর নতুন গতি আনতে পারে বলেই কূটনৈতিক মহলের নজর এখন মস্কোর দিকে।
