দিল্লির যন্তর মন্তরে ৩৬ দিনের আন্দোলনের সমাপ্তি। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।
দিল্লির যন্তর মন্তরে ৩৬ দিনের আন্দোলনের সমাপ্তি। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।

নয়াদিল্লি: রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন ও বিক্ষোভের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়েছে। গত ২৫ জুলাই আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে গোটা এলাকা। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এখনও কড়া নিরাপত্তা বজায় রেখেছে দিল্লি পুলিশ।
দীর্ঘ আন্দোলন চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি নজরদারি জোরদার করতে ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম (FRS) প্রযুক্তিরও ব্যবহার করা হয়।

আন্দোলনের শেষ সপ্তাহে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় দুইজন এসিপি-সহ মোট ছয়জন পুলিশকর্মী আহত হন। দিল্লি পুলিশের দাবি, আন্দোলনের ভিড়ে বহিরাগত ও সমাজবিরোধী কিছু ব্যক্তি ঢুকে পড়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
গোটা ঘটনার ওপর নজর রাখে সুপ্রিম কোর্টও। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সাংবিধানিক অধিকার হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য একটি অভিন্ন নির্দেশিকা প্রণয়নের বিষয়টিও আদালতের বিবেচনায় রয়েছে।
২৫ জুলাই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ২৬ জুলাই থেকে যন্তর মন্তরের অস্থায়ী মঞ্চ, ব্যারিকেড ও অন্যান্য কাঠামো সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু হয়। বর্তমানে এলাকায় যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কার্যক্রম অনেকটাই ফিরে এলেও নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
